গ্রিন কার্ড নিয়ে বড় স্বস্তি! আবেদনকারীদের দেশ ছাড়তে হবে না, স্পষ্ট জানাল মার্কিন প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা লক্ষাধিক অভিবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর। গত কয়েকদিন ধরে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের আবেদন চলাকালীন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে যে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছে—অধিকাংশ আবেদনকারীকে প্রক্রিয়ার সময় দেশ ছাড়তে হবে না।
বিতর্কের সূত্রপাত ও আতঙ্ক:
গত সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিবাসী সম্প্রদায়, নিয়োগকারী সংস্থা এবং আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, স্থায়ী বসবাসের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে জ্যাক কাহলারের এক মন্তব্য এই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে। এর ফলে এইচ-ওয়ানবি ভিসা (H-1B), ছাত্র ও পর্যটক ভিসাধারীদের মধ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
কী জানাল মার্কিন প্রশাসন?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রশাসনের মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার বর্তমান ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। অভিবাসন কর্মকর্তাদের আগে থেকেই প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা ছিল, যা এখনও বহাল রয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে দেশ ছাড়ার কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।
ভারতীয়দের জন্য স্বস্তি:
এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয়দের জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রাপকদের প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়। দীর্ঘ সময় ধরে অনেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার আশায় আমেরিকায় কর্মরত। নতুন ব্যাখ্যায় নিশ্চিত হওয়া গেল যে, কর্মীরা আগের মতোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, ফলে তাদের কাজের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিজীবনে কোনো বড় ধরনের বাধা আপাতত আসছে না।
পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লক্ষ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ এই ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছিল। আমেরিকার বিশাল ব্যবসায়ী মহল এবং বিদেশি কর্মীদের আশ্বস্ত করে প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা আগের ব্যবস্থাই বজায় রাখবে। ফলে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের ওপর চাপানো কথিত বাধ্যতামূলক দেশত্যাগের আতঙ্ক আপাতত কাটল বলেই মনে করা হচ্ছে।