উন্নাওয়ে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু! শ্বশুরবাড়িতে ডিপ ফ্রিজারে মরদেহ! হাইকোর্টের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত

বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে। ১৫ মে মৃতদেহ উদ্ধারের পর এবার হাইকোর্টের নির্দেশে কবর খুঁড়ে কাইনাত নামে ওই তরুণীর দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করল প্রশাসন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এই মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই খুনের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর কানপুরের নেহুরার বাসিন্দা কাইনাতের সঙ্গে বিয়ে হয় উন্নাওয়ের বাঙ্গারমাউয়ের বাসিন্দা শিম্বু আনসারির। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও অন্যান্য কারণে কাইনাতকে শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। ১৫ মে কাইনাতের দেওর বিনু ফোন করে জানান, তরুণীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু কাইনাতের বাবা-মা উন্নাওতে পৌঁছে যে দৃশ্য দেখেন, তাতে তারা স্তব্ধ হয়ে যান।
ডিপ ফ্রিজারে মরদেহ:
নিহতের পরিবারের দাবি, তারা যখন পৌঁছান, তখন কাইনাত আর বেঁচে নেই। তার মরদেহ একটি ডিপ ফ্রিজারের মধ্যে রাখা ছিল। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শিম্বু ও পরিবারের বাকি সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। ঘটনার সময় বাড়িতে কেবল একজন মহিলা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম ময়নাতদন্ত নিয়ে রহস্য:
পুলিশের প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ফাঁসিতে ঝোলা’ উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মৃতদেহ দাফনের আগে স্নানের সময় পরিবারের মহিলারা কাইনাতের শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এই অসংগতি দেখেই পরিবার প্রাথমিক প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা দাবি করেন, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুবিচারের আশায় পরিবারটি শেষ পর্যন্ত এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন পদক্ষেপ:
আদালতের নির্দেশে শুক্রবার এসডিএম, প্রশাসনিক কর্তা এবং বিপুল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে কানপুরের বেগমপুরওয়া বাগাহি ঈদগাহ কবরস্থান থেকে কাইনাতের দেহ তোলা হয়। এরপর বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য তা উন্নাও পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গভীর রাতে দেহটি পুনরায় দাফন করা হয়।
পুলিশ কী বলছে?
উন্নাও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।