হিন্দু পরিচয় দিয়ে প্রেম, বিয়ের নামে শারীরিক নির্যাতন! কানপুরে ধরা পড়ল ‘রোমিও’ কাইফ

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক আইন ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয় গোপন করে প্রতারণা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাইফ নিজের নাম ‘রাজদীপ’ বলে দাবি করে ওই ছাত্রীর বিশ্বাস অর্জন করেছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
ভুক্তভোগী ছাত্রীটি জানিয়েছেন, পোষা গরুর চিকিৎসার জন্য কোপারগঞ্জের একটি পশু হাসপাতালে যান তিনি। সেখান থেকে পশুচিকিৎসক সাহায্যকারী হিসেবে রাজদীপ নামে এক যুবককে পাঠান। চিকিৎসার সূত্রেই তাদের আলাপ। অভিযোগ, ওই যুবক নিজেকে হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

নামের আড়ালে আসল সত্য:
কিছুদিন পর যুবকটির আচরণে সন্দেহ হলে তরুণীটি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখনই সামনে আসে আসল সত্য—যুবকটি মোটেও ‘রাজদীপ’ নয়, বরং সে মাসওয়ানপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ কাইফ। সত্য জানার পরই ছাত্রীটি সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগাযোগের চেষ্টা বন্ধ করে দেন।

হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ:
অভিযোগ, এরপর থেকেই অভিযুক্ত কাইফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তরুণীর বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ, কলেজ যাওয়ার পথে পিছু নেওয়া এবং পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। আতঙ্কে ওই ছাত্রী কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দেন। এমনকি পুলিশের কাছে গেলে মানহানি করার হুমকিও দেওয়া হয়।

ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্টের জাল:
তদন্তে নেমে পুলিশ রীতিমতো অবাক হয়েছে। দেখা গেছে, কাইফ ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে একাধিক ভুয়া হিন্দু নাম ব্যবহার করে প্রোফাইল খুলে রেখেছিল। এই প্রোফাইলগুলোর মাধ্যমেই সে বহু তরুণীকে টোপ দিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের পদক্ষেপ:
ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার কোতোয়ালি এসিপি আশুতোষ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত অভিযোগ জানান। এসিপি আশুতোষ সিং নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাইফের এই প্রতারণার জালে আর কতজন তরুণী জড়িয়ে পড়েছেন, তা নিশ্চিত করতে এখন গভীর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।