ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধর! আদিত্য ধরের ছবির প্রোডাকশন ডিজাইনারের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পরিচালক আদিত্য ধরের বহুচর্চিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে বিনোদন জগতে তোলপাড়। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রে কোনো সিনেমাটিক সাফল্য নয়, বরং ছবির প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর যৌন হয়রানি ও মারধরের অভিযোগ। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও তাঁর নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল প্রযোজনা সংস্থা ‘B62 Studios’।
তদন্তে যা উঠে এল
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এই নিগ্রহের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর, আদিত্য ধর ও লোকেশ ধরের প্রযোজনা সংস্থা B62 Studios-এর অভ্যন্তরীণ ‘পোস’ (POSH) কমিটি দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তদন্ত চালায়। গত মার্চ মাসে তদন্ত শেষ হওয়ার পর কমিটি সাইনি এস জোহরকে দুটি গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে:
১. যৌন হয়রানি।
২. তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা বা প্রমাণের সাথে কারচুপি।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে নাম অপসারণ
ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে ইতিপূর্বেই সিনেমার মূল ক্রেডিট লাইন থেকে জোহরের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওটিটি সংস্করণে তাঁর নাম রয়ে যাওয়ায় বিতর্ক দানা বাঁধে। অবশেষে, গত ২২ মে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘ধুরন্ধর’-এর যে আনসেন্সরড সংস্করণ মুক্তি পেয়েছে, সেখানে সাইনি এস জোহরের নাম সম্পূর্ণ মুছে দেওয়া হয়েছে।
চণ্ডীগড় শুটিংয়ের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
অভিযোগকারী যুবতীর বয়ান অনুযায়ী, চণ্ডীগড়ে শুটিং চলাকালীন তাঁকে হোটেলে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর পানীয়তে মাদক মিশিয়ে যৌন নিগ্রহের চেষ্টা করা হয় এবং প্রতিবাদ করায় জোহর তাঁকে মারধরও করেন বলে অভিযোগ। এমনকি ওই যুবতীকে ঘরে বন্দি করে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি জট
শুধু অভ্যন্তরীণ তদন্ত নয়, গত ২০ এপ্রিল ভুক্তভোগী যুবতী চণ্ডীগড়ে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে চণ্ডীগড় পুলিশ অভিযুক্ত সাইনি এস জোহরকে গ্রেফতার করলেও, পরবর্তীকালে স্থানীয় জেলা আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়ে যান।
বর্তমানে অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত থাকলেও, স্বনামধন্য প্রযোজনা সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিনোদন দুনিয়ায় সাইনি এস জোহরের পেশাগত ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। এ বিষয়ে আদিত্য ধর বা তাঁর প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে আরও কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, তা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রি।