“গুজবে কান দেবেন না, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হবে ফর্ম ফিলআপ”-অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বললেন শুভেন্দু

‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ১১-১২ পাতার বিশাল ফর্ম নিয়ে রাজ্যে যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ফর্ম ফিলাপ করতে না পারলে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই, সরকারের প্রতিনিধিরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করিয়ে আনবেন।
বুধবারই প্রথম ধাপের টাকা:
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী ২ জুন পর্যন্ত যাঁরা ফর্ম জমা দেবেন, তাঁদের নথিপত্র যাচাইয়ের পর বুধবার, ৩ জুন থেকে প্রথম ধাপের ৩ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।
বাড়িতেই মিলবে ফর্ম ফিলাপের সাহায্য:
ফর্মের জটিলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকে ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন, তাঁরা বিচলিত হবেন না। আমাদের প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করে নিয়ে আসবেন। গুজবে কান দেবেন না, আমরা চাই প্রতিটি প্রকৃত প্রাপক এই প্রকল্পের সুবিধা পান।”
স্বচ্ছতা ও ডিসিপ্লিন নিয়ে কড়া বার্তা:
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত মানুষের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বেশ কিছু কড়া বার্তা দিয়েছেন:
অ-ভারতীয়দের হাত থেকে সুরক্ষা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, কোনো অ-ভারতীয় যাতে এই প্রকল্পের টাকা না পান, তা সরকার কঠোরভাবে দেখছে।
পুরুষদের টাকা পাওয়া বন্ধ: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যেসব পুরুষ সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা: শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার সম্পূর্ণ ‘ডিসিপ্লিন’ বা শৃঙ্খলা মেনে কাজ করবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে যে সব ত্রুটি ও জালিয়াতি অতীতে দেখা গিয়েছিল, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে তা হতে দেওয়া হবে না। সঠিক তথ্য যাচাই এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন প্রশাসনের কাছে প্রধান লক্ষ্য। তবে ফর্ম ফিলাপ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভয়বার্তায় সাধারণ মহিলাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলেই আশা করা হচ্ছে।