‘ছেলেরা বিয়ে করে কেন?’ পণ ও বধূ নির্যাতন নিয়ে বিস্ফোরক সুপ্রিম কোর্ট

দেশজুড়ে পণপ্রথা এবং বধূ নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ছত্তীসগড়ের ২০১০ সালের একটি গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলায় অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির সদস্যের দায়ের করা আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু আবেদন খারিজই নয়, আদালত থেকে এসেছে চরম ভর্ৎসনা।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চের প্রশ্ন, “ছেলেরা বিয়ে করে কেন? শুধু কি মেয়েদের এবং তাঁদের পরিবারকে অপমান করার জন্য?” পণপ্রথা যে সমাজের একটি গভীর ক্ষত এবং তা যে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, সেই বার্তাই এদিনের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বার্তা: বিচারপতিদের বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, বিবাহের মতো একটি পবিত্র সম্পর্কের আড়ালে কোনো পরিবার বা নারীকে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা বা অপমান করা ফৌজদারি অপরাধের সমতুল্য। আদালত থেকে আরও বলা হয়েছে, এমন একটি স্পষ্ট বার্তা সমাজকে দেওয়া প্রয়োজন যে, এই ধরনের অমানবিক আচরণ আর চলতে দেওয়া হবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট: ছত্তীসগড়ের এই মামলাটি বহু পুরনো একটি পণ-মৃত্যুর ঘটনা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে, তা দেশে পণপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াকু বার্তা হিসেবেই দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। অভিযুক্ত পক্ষের আবেদনের সারবত্তা নেই বলে তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

সমাজের প্রতিটি স্তরে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পণপ্রথার অভিশাপ দূর করতে আদালতের এই ধরনের কড়া মনোভাব কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।