পুরনো হলুদ ট্যাক্সিই এবার ইভি! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উদ্ভাবনে তোলপাড় শহর

কলকাতার আইকনিক হলুদ অ্যাম্বাসাডর ট্যাক্সিকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে (EV) রূপান্তরের এক অভাবনীয় উদ্ভাবন নিয়ে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ডিজেলচালিত পুরনো গাড়িগুলোকে বাতিল না করে কীভাবে সাশ্রয়ী উপায়ে ইভিতে পরিবর্তন করা যায়, তার একটি সফল প্রোটোটাইপ বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আনলেন গবেষকরা।
গবেষণার নেপথ্যে: ডিভিসি (DVC)-র আর্থিক সহায়তায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে এই গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়। পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্ত, ড. ভীমসেন টুডু ও ড. নির্মলেন্দু বিশ্বাসের নেতৃত্বে এই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, গাড়ির মূল কাঠামো ও ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রেখেই পেট্রল-ডিজেল ইঞ্জিনের জায়গায় বৈদ্যুতিক মোটর বসানো।
গাড়ির বিশেষত্ব:
-
গতি ও দক্ষতা: এই রূপান্তরিত ট্যাক্সি মাত্র ৩ সেকেন্ডেই ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম। একবার ফুল চার্জ দিলে শহরের রাস্তায় অনায়াসেই প্রায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে।
-
আধুনিক প্রযুক্তি: এতে রয়েছে আধুনিক সেন্সর এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এছাড়া কলকাতার জলজমার কথা মাথায় রেখে ব্যাটারির নকশা করা হয়েছে, যাতে কোনো সমস্যা না হয়।
-
সাশ্রয়ী: উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের মতে, নতুন ইভি কেনার চেয়ে পুরনো গাড়ি রূপান্তর করা অনেক বেশি কস্ট-এফেক্টিভ। বিশেষ করে ফিটনেস সমস্যা থাকা ট্যাক্সিমালিকদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: বৃহস্পতিবার ডিভিসি-র চেয়ারম্যান সুরেশ কুমারের উপস্থিতিতে এই প্রোটোটাইপের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হয়। বর্তমানে গাড়িটিকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন মিললে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের লক্ষ লক্ষ পুরনো গাড়ি বাতিল না করে পরিবেশবান্ধব করে তোলা সম্ভব হবে, যা দূষণ কমাতে এবং নতুন গাড়ি কেনার চাপ কমাতে সহায়ক হবে।