শতবর্ষে নতুন জীবন! ১০০ বছর বয়সে সফল পেসমেকার অস্ত্রোপচার কলকাতায়

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নজির গড়লেন কলকাতার চিকিৎসকরা। ১০০ বছর চার মাস বয়সী এক বৃদ্ধার হৃদযন্ত্রের জটিল সমস্যার সমাধানে সফলভাবে পেসমেকার বসিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তুললেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, বয়স কোনো বাধা নয়, সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে যেকোনো বয়সেই মানুষ নতুন জীবন ফিরে পেতে পারেন।

ঠিক কী হয়েছিল বৃদ্ধার? হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রবীণা গত কয়েকদিন ধরে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন বা ‘ব্ল্যাকআউট’-এর শিকার হচ্ছিলেন। এই বয়সে এমন ঘটনা তাঁর শরীরের জন্য ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে ভর্তির পর ইসিজি পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, তাঁর হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘সিমটোম্যাটিক বাইফ্যাসিকুলার ব্লক উইথ সিক সাইনাস সিনড্রোম’।

চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার: হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাকেশ সরকার এবং ডা. অশোক বি. মালপানির নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। ডা. মালপানি জানান, শতায়ু রোগীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অস্ত্রোপচার নিয়ে দ্বিধা কাজ করলেও, এই রোগীর ক্ষেত্রে বারবার অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পেসমেকার বসানোই ছিল একমাত্র পথ। গত ১৪ এপ্রিল সফলভাবে তাঁর শরীরে ‘ডুয়াল-চেম্বার বায়োট্রনিক ডিডিডি’ (Dual-Chamber Biotronik DDD) পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা হয়।

সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরা: অস্ত্রোপচারের মাত্র দুদিনের মধ্যেই বৃদ্ধা সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। সম্প্রতি তিনি পুনরায় চেক-আপের জন্য হাসপাতালেও আসেন এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি এখন সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছেন।

ডা. মালপানির কথায়, “চিকিৎসার সিদ্ধান্ত বয়স দেখে নয়, বরং রোগীর শারীরিক প্রয়োজনীয়তা ও সুফলের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত।” এই ঘটনা কলকাতার চিকিৎসা পরিকাঠামোর সাফল্যের মুকুটে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত করল।