হরমোজ প্রণালীতে রণক্ষেত্র! ফের মার্কিন হামলা ইরানে, ধ্বংস ৪ ড্রোন! বড় সংঘাতের ইঙ্গিত?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে ফের নতুন করে সংঘাতের ঢেউ। হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পেন্টাগনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা চারটি ইরানি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

কেন এই হামলা?
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বন্দর আব্বাসের একটি ঘাঁটিতে পঞ্চম ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। সেই নির্দিষ্ট ঘাঁটি লক্ষ্য করেই মার্কিন বাহিনী অভিযান চালায়। পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলো ছিল সম্পূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ এবং বর্তমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও রাজনীতির সমীকরণ:
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান এখন আলোচনার ক্ষেত্রে চরম সংকটের মুখে বা তার ভাষায় “আলোচনার শেষ সীমায়” পৌঁছেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সংঘাত নিরসনের কোনো চুক্তিতে তাকে বাধ্য করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে পরোয়া করি না। লক্ষ্য এখন একটি টেকসই নিষ্পত্তি।” যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার পথে, কিন্তু উভয় পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সমাধান না কি নতুন সংঘাতের ঝুঁকি?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কট্টরপন্থী নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য এই শান্তিচুক্তি আদতে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সমালোচকদের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে মূল সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। অন্যদিকে, ইরান এই মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কঠোর সমালোচনা করেছে।

হরমোজ প্রণালীর এই অস্থিরতা এবং দুই দেশের এই ‘ড্রোন যুদ্ধ’ বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির মোড় কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।