গ্যাসের সংকটে ধুঁকছে রাজ্যের রেস্তোরাঁ-দোকান! দাম বাড়ল চপ-ফাস্টফুডের, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির রেশ সরাসরি এসে পড়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। যদিও সাধারণ রান্নার গ্যাস মিলছে, কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাসের হাহাকার এখন রাজ্যের ছোট চপ দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসা কার্যত অচল করে দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্যবসার চাকা সচল রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন মালিকরা।

ব্যবসায়ীদের আর্তনাদ:
দমদম স্টেশন চত্বরের এক চপ বিক্রেতার কথায়, “তেলে ভাজার খরচ বেড়ে যাওয়ায় ৫ টাকার জিনিস ৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি খুব কঠিন।” আবার এক ফাস্টফুড সেন্টারের মালিক হতাশ হয়ে বলেন, “গ্যাসের যা অবস্থা, তাতে মনে হয় অদূর ভবিষ্যতে আবার কাঠ-কয়লায় রান্না করার পুরনো দিনগুলো ফিরে আসবে।” এক ক্যাফের মালিক জানান, গ্যাসের বাড়তি খরচ মেটাতে খাবারের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে, যার ফলে দোকানে ভিড় আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও পরিস্থিতির আঁচ:
এই জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী পেট্রোলিয়াম সাশ্রয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সরকারিভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

যতটা সম্ভব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা গণপরিবহন ব্যবহার করা।

জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) বা বাড়ি থেকে কাজ করার ওপর পুনরায় জোর দেওয়া।

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা:
আগামী কয়েক মাসে রান্নার গ্যাসের অভাব ঠিক কতটা প্রকট হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক ব্যবসায়ীই আশঙ্কা করছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে হয়তো আবারও কাঠ-কয়লার মতো পুরনো জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে।