জ্বালানি তেলের দামে বড় সংকট! তেল কোম্পানিগুলোর লোকসান কমাতে কত টাকা কমতে হবে অপরিশোধিত তেলের দাম?

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলোর (OMC) ওপর প্রবল আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। জেফারিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান খুচরা মূল্যে প্রতিটি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলে কোম্পানিগুলো গড়ে ৭ থেকে ৮ টাকা লোকসান করছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫-৮৭ ডলারের নিচে নেমে আসবে।
কেন এই আর্থিক লোকসান?
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ পাম্প মূল্যের সমন্বয় করতে পারছে না। জেফারিসের শীর্ষ বিশ্লেষক মহেশ নন্দুরকর জানিয়েছেন, একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া মূল্য, অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে অভ্যন্তরীণ পাম্প মূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের ফারাকই কোম্পানিগুলোর লোকসানের মূল কারণ। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আবগারি শুল্ক প্রায় ৪০% কমানোর ফলে কোম্পানিগুলোর এই চ্যালেঞ্জ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
৮৫-৮৭ ডলারের ‘ব্রেক-ইভেন’ সমীকরণ
জেফারিসের হিসাব বলছে:
ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট: ব্যারেলপ্রতি ৮৫-৮৭ ডলার হলো সেই বিন্দু, যেখানে কোম্পানিগুলোর আয় ও ব্যয় সমান হয়।
ভবিষ্যদ্বাণী: ২০২৬ সালের জুলাই নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে স্থির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকলে কোম্পানিগুলোর লোকসান অব্যাহত থাকবে।
সরকারি কৌশলের চাপ
কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা (জিডিপির ৪.৩ শতাংশ) পূরণ করতে গিয়ে বাজেট বরাদ্দের বদলে তেল কোম্পানিগুলোকেই সংকট নিরসনকারী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব সংহতকরণের খাতিরে সরকার জ্বালানি শুল্ক ছাড়ে কোনো পরিবর্তন আনতে ইচ্ছুক নয়। বরং এর ক্ষতিপূরণ করতে সরকার প্রতিরক্ষা-বহির্ভূত মূলধনী ব্যয় কমানোর মতো কঠিন পথ বেছে নিতে পারে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সরকারের হাতে বিকল্প:
ভর্তুকির বোঝা: ৯০ ডলারের অপরিশোধিত তেলের দাম বজায় থাকলে সার এবং এলপিজি ভর্তুকি খাতে বিপুল বাড়তি খরচ হবে, যা পরোক্ষভাবে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।
মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা: যদি তেলের দাম ৯০ ডলারের আশেপাশেই থাকে এবং সরকার ঘাটতি কমাতে বদ্ধপরিকর থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে খুচরা বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানোর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিতে হতে পারে।
অতিরিক্ত রাজস্ব: এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে সোনা-রুপার ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপ করেছে।
বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষে মুনাফা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। যতদিন না অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৫-৮৭ ডলারের স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে ফিরছে, ততদিন পাম্পের এই বাড়তি লোকসানের বোঝা মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোকেই বহন করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।