বিমান ভ্রমণে বড় ধাক্কা! মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর ঘোষণা এয়ার ইন্ডিয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং আকাশছোঁয়া জ্বালানি মূল্যের জেরে বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো এয়ার ইন্ডিয়া। বিমান সংস্থাটি বুধবার ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত তারা কিছু অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত?
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) দাম ক্রমাগত বাড়ছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার আকাশসীমা এড়িয়ে চলার ফলে রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে, যা পরিচালনগত খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সংস্থাটি আপাতত ফ্লাইটের সংখ্যা সীমিত করার পথ বেছে নিয়েছে।

যাত্রীদের জন্য সুখবর ও বিকল্প ব্যবস্থা
যেসকল যাত্রীর ফ্লাইট এই পরিবর্তনের ফলে প্রভাবিত হবে, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

বিকল্প ফ্লাইট: যাত্রীদের অন্য ফ্লাইটে স্থানান্তরের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

সময় পরিবর্তন: কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই যাত্রীরা তাদের ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত: যারা ভ্রমণ বাতিল করতে চান, তারা কোনো ঝক্কি ছাড়াই পুরো টিকিটের টাকা ফেরত (Full Refund) নিতে পারবেন।

কোন কোন রুটে প্রভাব?
আন্তর্জাতিক রুটে ইতিমধ্যে ২৯টি ফ্লাইট স্থগিত বা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। দিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই থেকে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, টরন্টো, প্যারিস, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক এবং মেলবোর্নের মতো জনপ্রিয় রুটগুলো এই পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে। তবে এয়ার ইন্ডিয়া আশ্বস্ত করেছে যে, এই সংকটেও তারা পাঁচটি মহাদেশ জুড়ে প্রতি মাসে ১,২০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতামত
aviation শিল্পের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সব বিমান সংস্থার ওপরই বড় চাপের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোকেও একই ধরনের ব্যয়-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে।