জীবিত থেকেও মৃত! সরকারি খাতায় নাম কাটায় পেনশনের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় বৃদ্ধা

সরকারি নথিতে তিনি মৃত, অথচ বাস্তবে লাঠিতে ভর দিয়ে প্রতিদিন পঞ্চায়েত থেকে ব্লক অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ ব্লকের এই ঘটনাটি প্রশাসনিক অবহেলার এক চরম নিদর্শন। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধা জামাতুন নিশাকে এখন নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতেই রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে।

কী ঘটেছে?
সুখানি থানা এলাকার ভেলাগুরি ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাতুন নিশা এতদিন বার্ধক্য পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী ছিলেন। এই পেনশনের টাকা দিয়েই চলত তাঁর ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় পেনশন। ব্লক অফিসে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি পোর্টালে তাঁকে ‘মৃত’ বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

পেনশন পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াই
পেনশন চালুর জন্য জামাতুন নিশা পঞ্চায়েত প্রধান ও সরপঞ্চের কাছ থেকে জীবিত থাকার শংসাপত্র নিয়ে ব্লকে ছুটছেন। অভিযোগ, প্রতিবারই তাঁকে প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বৃদ্ধার করুণ আর্তনাদ, “পেনশন না পেলে কী খাব? ওষুধ কিনব কী করে? আমি বেঁচে আছি, অথচ সরকার আমাকে মৃত ঘোষণা করে রেখেছে!”

জানা গেছে, তাঁর সুবিধাভোগী নম্বর (Beneficiary Number) হলো 000000901405। তিনি প্রশাসনের কাছে ভুল সংশোধন করে দ্রুত পেনশন চালুর দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য
ঠাকুরগঞ্জ ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা (BDO) আহমার আবদালী জানিয়েছেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।” তবে প্রশাসন বৃদ্ধাকে নতুন করে পেনশনের আবেদন করতে পরামর্শ দিয়েছে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

কেন এমন ভুল?
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো রকম সরেজমিন যাচাই ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। জামাতুন নিশার ক্ষেত্রেও সেই একই গাফিলতি হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনিক এই ভুল যে এক বৃদ্ধার বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনের এই উদাসীনতা কি শেষ পর্যন্ত একজন অসহায় বৃদ্ধাকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেবে? কিষাণগঞ্জের এই ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে।