ভোপালে আইপিএস অফিসারের বাড়িতে শোকের ছায়া! মেয়ের সুইসাইড নোটে লেখা শেষ কথা কাঁদাল শহরকে!

ভোপালের অতি সুরক্ষিত এবং ভিআইপি এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘চার ইমলি’তে ঘটল এক মর্মান্তিক ঘটনা। আইপিএস অফিসার সঞ্জীব কাঞ্চনের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মেয়ের রহস্যময় মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রশাসনিক মহলে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সকলের সাথেই হাসিখুশিতে প্রাতরাশ সেরেছিলেন ওই কিশোরী। কিন্তু দুপুরে বাবা—পিএইচকিউ (PHQ)-তে কর্মরত এআইজি সঞ্জীব কাঞ্চন—খাবার খেতে বাড়ি ফিরে দেখেন মেয়ের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন তিনি। ভেতরে প্রবেশ করতেই তার সামনে ভেসে ওঠে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য—ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে মেয়ের নিথর দেহ।

তড়িঘড়ি হাবিবগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একটি সুইসাইড নোট, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর শোক ও রহস্য।

কী লেখা আছে সেই নোটে?
এসিপি উমেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, কিশোরীর লেখা এক পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ইংরেজি ভাষায় লেখা সেই নোটে মেয়েটি তার বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছে, “বাবা ও মা, আমি তোমাদের খুব ভালোবাসি। আমি নিজের চেয়েও তোমাদের বেশি ভালোবাসি। আমি ভালো মেয়ে হতে পারিনি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি একটি ছোট সফরে যাচ্ছি। আমি দুঃখিত।”

বর্তমানে পুলিশ কিশোরীর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে। ব্যক্তিগত কোনো টানাপোড়েন নাকি অন্য কোনো কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উল্লেখ্য, মৃত কিশোরীর মা রেণুকা কাঞ্চনও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং গ্যাস ত্রাণ বিভাগের রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং শিক্ষিত পরিবারের মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা ভোপালের পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।