পরীক্ষার খাতায় জালিয়াতি? সিবিএসইর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ, উত্তাল পরিস্থিতি দিল্লিতে

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর বিরুদ্ধে পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় চরম অবহেলা ও গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ উঠল। দ্বাদশ শ্রেণির একাধিক ছাত্রছাত্রীর অভিযোগ, তাদের উত্তরপত্র বদলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভই তৈরি হয়নি, খোদ সিবিএসই এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ভুক্তভোগী ছাত্র।
উত্তরপত্রে অন্যের হাতের লেখা!
নজফগড়ের বাসিন্দা মোক্ষ যাদব নামক এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের অভিযোগ, ইংরেজি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের পর তিনি যখন স্ক্যান করা কপির আবেদন করেন, তখন এক ভয়াবহ বিভ্রান্তি সামনে আসে। সিবিএসইর পাঠানো স্ক্যান কপিতে দেখা যায়, প্রথম পৃষ্ঠাটি মোক্ষর হলেও, বাকি পৃষ্ঠাগুলো সম্পূর্ণ অন্য এক ছাত্রের। আইনজীবীর দাবি, মোক্ষ পরীক্ষায় কোনোভাবেই কালো কলম ব্যবহার করেননি, কিন্তু ওই স্ক্যান করা কপিতে অন্য ছাত্রটি কালো কলম ব্যবহার করেছে এবং হাতের লেখাও সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভাইরাল বেদান্তের ঘটনা
মোক্ষ একা নন, এর আগে বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে অন্য এক ছাত্র পদার্থবিজ্ঞানের ভুল উত্তরপত্র পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে সিবিএসই চাপে পড়ে এবং পরে ভুল স্বীকার করে সঠিক উত্তরপত্র পাঠাতে বাধ্য হয়। এই ধরনের একের পর এক ঘটনায় বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
আইনি পদক্ষেপ ও ছাত্রের দাবি
মোক্ষ যাদবের আইনজীবী বিনীত জিন্দাল সিবিএসইর বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলা ও পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন। আইনি নোটিশে দাবি জানানো হয়েছে:
অবিলম্বে ছাত্রটির প্রকৃত উত্তরপত্র সরবরাহ করতে হবে।
নিরপেক্ষভাবে পুনরায় উত্তরপত্রের মূল্যায়ন করতে হবে।
গোটা প্রক্রিয়ার তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভুল উত্তরপত্র কেন পাঠানো হলো তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নোটিশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দুই দিনের মধ্যে সমাধান না হলে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হবে।
ছাত্রছাত্রীদের দাবি ও উদ্বেগ
এদিকে, সিবিএসইর ওয়েবসাইট ঠিকমতো কাজ না করায় অনেকেই স্ক্যান করা উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করতে পারছেন না। আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবিতে উদ্বিগ্ন ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা দিল্লিতে সিবিএসইর আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভিড় করছেন।
বোর্ডের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ভারতের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সিবিএসই কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও স্বচ্ছতার আশ্বাস দেবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।