স্ত্রীকে খুশি করতে ছিনতাইয়ের পথে যুবক! সর্দার হয়ে লুট করল ৭০ লাখের সোনা, তারপর…

স্ত্রীকে বিলাসবহুল জীবন দেওয়ার নেশা, আর সেই লক্ষ্যপূরণে অপরাধ জগতের অন্ধকার গলিতে পা রাখা! কর্নাটকের মান্ডিয়ায় এক যুবকের এমনই এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক পরিণতির কাহিনি সামনে এসেছে, যা শুনে হতবাক পুলিশও। এক বছর ধরে পলাতক থাকার পর শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই ছিনতাইকারী চক্রের সর্দার ও তার তিন সহযোগী।

স্ত্রীকে ধোঁকা দিতেই অপরাধের সূচনা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মূল অভিযুক্ত গুরুপ্রসাদ ওরফে গুরু (৩৬) তার স্ত্রীকে একজন প্রভাবশালী ও কোটিপতি ব্যক্তি হিসেবে জাহির করতে চাইত। এই ভণ্ডামিপূর্ণ জীবনধারা বজায় রাখতে এবং স্ত্রীর আবদার মেটাতে সে বেছে নেয় অপরাধের পথ। মান্ডিয়া ও মহীশূর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নারীদের টার্গেট করে সোনার চেইন ছিনতাই করাই ছিল তার নেশা। ধীরে ধীরে সে গড়ে তোলে একটি শক্তিশালী ছিনতাইকারী চক্র।

স্ত্রীর মৃত্যু ও অপরাধ থেকে বিরতি
সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রায় এক বছর আগে পারিবারিক বিবাদের জেরে গুরুপ্রসাদের স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। স্ত্রীর অকালমৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গুরুপ্রসাদ। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার পর সে অপরাধ জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তার গড়ে তোলা দলটি ততদিনে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সিসিটিভি ফুটেজেই কেল্লাফতে
গত ৩০ মার্চ কিরুগাভালু থানা এলাকায় এক মহিলার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। মান্ডিয়া পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে রোহিত ও নানজেগৌড়াকে আটক করে। তাদের জেরা করেই বেরিয়ে আসে মূল চক্রের হদিশ। এরপরই পুলিশ গ্রেফতার করে গুরুপ্রসাদ ও মাদেশকে।

৭০ লাখের সোনা উদ্ধার
পুলিশের এই বড়সড় অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪৭৫ গ্রাম সোনা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বাইকগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চক্রটি মান্ডিয়া ও মহীশূর জেলায় অন্তত ১৬টি চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। চার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।