কানপুর মেট্রোয় মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি! ঠিক ২০ মিটার আগেই থমকে গেল দুই ট্রেন, জানুন আসল কারণ

কানপুর মেট্রোর নতুন রুটে যেন এক রুদ্ধশ্বাস সিনেমা! উত্তর প্রদেশ মেট্রো রেল কর্পোরেশন (UPMRC) পরিচালিত ট্রায়াল রানের সময় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে থাকা দুটি মেট্রো ট্রেন একই ট্র্যাকে মুখোমুখি চলে এলেও শেষ মুহূর্তে রক্ষা পেল যাত্রীরা—না, কোনো চালকের বুদ্ধিতে নয়, বরং মেট্রোর স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থার অসামান্য দক্ষতায়।
কী ঘটেছিল সেদিন?
মঙ্গলবার কানপুর সেন্ট্রাল থেকে ট্রান্সপোর্ট নগর রুটে চলছিল মেট্রোর পরীক্ষামূলক যাত্রা। টানেলের ভেতর দিয়ে যখন মেট্রোটি ৮০ কিমি গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই একই লাইনে বিপরীত দিক থেকে আরেকটি ট্রেন চলে আসে। সেই ট্রেনটির গতিও ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিমি। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও দেখা যায়, মুখোমুখি হওয়ার ঠিক ২০ মিটার আগেই দুটি ট্রেনের চাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে থেমে গেছে।
কেন এই ‘কৃত্রিম’ সংঘর্ষ?
ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত সকলে চমকে গেলেও উত্তর প্রদেশ মেট্রো রেল কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুশীল কুমার জানান, এটি কোনো ভুল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত পরীক্ষা। মেট্রোর আধুনিক ‘অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন’ (ATP) এবং ‘কমিউনিকেশন বেসড ট্রেন কন্ট্রোল’ (CBTC) সিগন্যালিং সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই ঝুঁকি নেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, “আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল জরুরি অবস্থায় মেট্রোর স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেম কতটা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করে তা দেখে নেওয়া। পরীক্ষাটি শতভাগ সফল হয়েছে।”
যাত্রীদের সুরক্ষায় কড়াকড়ি
কানপুর সেন্ট্রাল থেকে নওবস্তা পর্যন্ত করিডোর-১-এর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই এই রুটে সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। এর আগে বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে সম্পূর্ণ রুটের স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে, যেখানে সিগন্যালিং ও সুরক্ষাব্যবস্থা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়েছে।
অর্থাৎ, কানপুর মেট্রোর আধুনিক প্রযুক্তির এই পরীক্ষায় নিশ্চিত হলো যে, ভবিষ্যতে যাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। প্রযুক্তির এই নিখুঁত পারফরম্যান্স এখন সাধারণ মানুষের মেট্রো ভ্রমণের ভরসা আরও বাড়িয়ে দিল।