বিলাসবহুল ইলেকট্রিক দুনিয়ায় ফেরারির এন্ট্রি! ৫ কোটির ‘লুচে’ আনতেই ধস শেয়ার বাজারে?

বিলাসবহুল স্পোর্টস কারের দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করল ইতালীয় জায়ান্ট ‘ফেরারি’। পেট্রোল এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের সমার্থক হয়ে থাকা কোম্পানিটি এবার বাজারে আনল তাদের প্রথম সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ি—‘লুচে’ (Luce)। ইতালীয় শব্দ ‘লুচে’-র অর্থ ‘আলো’। তবে এই ঐতিহাসিক লঞ্চের পরপরই বিনিয়োগকারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং স্টক মার্কেটে বড় ধরণের ধস দেখা দিয়েছে।
শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা
গাড়িটি বাজারে আসার পর ২৬ মে মিলান স্টক মার্কেটে ফেরারির শেয়ারের দাম ৮ শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়। নিউইয়র্ক মার্কেটেও এর প্রভাব পড়ে এবং শেয়ারের দাম কমে ৫ শতাংশের বেশি। বিনিয়োগকারীদের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণ হিসেবে বাজারে চলমান বিতর্ককে দায়ী করা হচ্ছে।
ডিজাইন নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লুচে’ লঞ্চ হতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের চেয়ে একেবারে আলাদা এই লুক অনেকেরই পছন্দ হয়নি। অনেকে অভিযোগ তুলেছেন, ফেরারি তার নিজস্বতা হারিয়ে ফেলছে। অ্যাপলের প্রাক্তন ডিজাইন প্রধান জনি আইভের ডিজাইন এজেন্সি ‘লাভফ্রম’-এর সাথে যৌথভাবে এই গাড়িটি তৈরি করা হলেও, সমালোচকরা এটিকে জাগুয়ারের নতুন মডেলের সাথে তুলনা করে ফেরারির পুরনো পরিচয়ের বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন।
ঝড় তোলা পারফরম্যান্স
সমালোচনার বাইরে ফেরারির ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। সিইও বেনেদেত্তো ভিনিয়া জানিয়েছেন, এই গাড়িটি তৈরিতে দীর্ঘ পাঁচ বছর ব্যয় করা হয়েছে।
সক্ষমতা: প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে।
গতি: মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ৯৬ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে সক্ষম।
অভিনবত্ব: ফেরারির ইতিহাসে প্রথম পাঁচ-আসনের (5-Seater) গাড়ি এটি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে ল্যাম্বরগিনি বা পোর্শের মতো কোম্পানিগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ির সম্পূর্ণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড মডেলের দিকে ঝুঁকছে। পাশাপাশি চীনা কোম্পানিগুলোর সুলভ মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির চাপে ইউরোপীয় ও আমেরিকান ব্র্যান্ডগুলো চাপের মুখে। এমন পরিস্থিতিতে, ফেরারি একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেবল বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর নির্ভর না করে পেট্রোল ও হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদনও অব্যাহত রাখবে।
বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে ফেরারির এই ‘ইলেকট্রিক ঝুঁকি’ শেষ পর্যন্ত সাফল্যের আলো দেখবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।