‘বরফ থেকে মরুভূমি, আপনারা দেশের গর্ব!’ বিএসএফ জওয়ানদের কুর্নিশ অমিত শাহের

ভারতের সীমান্ত রক্ষায় বিএসএফ (BSF) জওয়ানদের অসামান্য অবদান ও ত্যাগের কথা ফের একবার মনে করিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার রাজস্থানের বিকানেরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত সাঞ্চু সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছে বিএসএফ কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তিনি। চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সীমান্তরক্ষীদের বীরত্বের জয়গান
ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “দেশের সীমান্তরক্ষীরা কখনও রোদ বা শীতের পরোয়া করেননি। বরফাবৃত পাহাড়ের চূড়া হোক বা ৪৫ ডিগ্রি উত্তপ্ত মরুভূমি—বিএসএফ জওয়ানরা ভারতের সীমান্ত রক্ষা করেছেন বীরত্ব ও সাহসের সঙ্গে।” তিনি আরও যোগ করেন, জওয়ানদের এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঋণে গোটা দেশ আবদ্ধ।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের স্মৃতি
অমিত শাহ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা। তিনি জানান, এই অপারেশনে বিএসএফ যে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিল, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনোবল অটুট রাখতেও জওয়ানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রয়োজন পড়লে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিতেও বিন্দুমাত্র পিছপা হননি তাঁরা। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করে শাহ বলেন, “সেই সময় সাঞ্চুর দিক থেকে পাকিস্তান মুখ ফিরিয়ে পালিয়েছিল, যার নেপথ্যে ছিল আমাদের সীমান্তরক্ষীদের অদম্য প্রতিরোধ।”
সীমান্তের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং ওপার থেকে আসা যেকোনো ধরণের হুমকির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। জওয়ানদের আধুনিকায়ন এবং বিএসএফের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।”
পরিশেষে দেশের সুরক্ষায় নিবেদিত প্রাণ বিএসএফ জওয়ানদের সাহস ও শৌর্যকে কুর্নিশ জানিয়ে শাহ বলেন, ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই বীরগাথা সম্পর্কে আরও সচেতন ও শিক্ষিত করে তোলা প্রয়োজন।