‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিতে চাপ ট্রাম্পের! ইসরায়েলের সাথে কি তবে এবার পাকিস্তান-সৌদি?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের বড় ধরনের অস্থিরতা ও পরিবর্তনের আভাস। ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমান্তরালে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ (Abraham Accords) অন্তর্ভুক্ত করার জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে। লক্ষ্য, ইসরায়েলের সঙ্গে এই দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
আব্রাহাম চুক্তি আসলে কী?
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করা। নবী আব্রাহামের নামে নামাঙ্কিত এই চুক্তিতে সর্বপ্রথম স্বাক্ষর করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তীকালে বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো এতে যোগ দেয়। বর্তমানে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়নোর সবচেয়ে বড় মার্কিন কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন মরিয়া?
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে চারটি বড় লক্ষ্য:
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব: ‘মেসা’ (MEESA) বা মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোকে একত্রিত করে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব নির্মূল করা।
ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা: ফিলিস্তিন ইস্যুর কারণে মুসলিম বিশ্বে ইসরায়েলের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে তা ধুয়েমুছে ফেলা।
ইরান ও তালেবান নিয়ন্ত্রণ: পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে ইরান ও তালেবানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
নির্বাচনী কৌশল: ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন ইহুদি ভোটারদের কাছে নিজের ‘ইসরায়েল-পন্থী’ ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন।
পাকিস্তানের জন্য কি এটি সম্ভব?
আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, পাকিস্তানের জন্য এই চুক্তিতে যোগ দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ:
১. গণরোষ: পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে ফিলিস্তিন ইস্যু অত্যন্ত আবেগের। জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে পাকিস্তান সরকারের জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
২. প্রতিরক্ষা ও নীতিগত উদ্বেগ: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফসহ নীতিনির্ধারকরা বারবার ইসরায়েল বিরোধী অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটনের যেকোনো ‘অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব’ গ্রহণ করা ইসলামাবাদ ও রিয়াদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসির মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত ওয়াশিংটনের ইসরায়েল-বান্ধব নীতির বহিঃপ্রকাশ। ইরান ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে আব্রাহাম চুক্তির প্রচার চালিয়ে তিনি মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে চাইছেন।
এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের চাপে পড়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান বা কাতারের মতো দেশগুলো তাদের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে আসে কিনা। তবে আপাতত এনিয়ে গোটা মুসলিম বিশ্বে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।