সোনিপাতে রক্তগঙ্গা! প্রতিবেশী বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দম্পতির, নিশানায় স্কুল নিরাপত্তারক্ষী

হরিয়ানার সোনিপাতের টিডিআই সিটি কুন্ডলিতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ‘ত্রিপল মার্ডার’ বা তিন খুনের ঘটনায় পুরো এলাকা স্তম্ভিত। ফ্ল্যাটে ঢুকে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত ব্রহ্মপ্রকাশ (যশোর খেড়ি গ্রামের বাসিন্দা) কুন্ডলির ওই আবাসনের বাসিন্দা স্বাতীর ফ্ল্যাটে জোর করে প্রবেশ করে। স্বাতীর ওপর শারীরিক নিগ্রহের চেষ্টা করা হলে তিনি চিৎকার করে সাহায্য চান। সেই আর্তনাদ শুনে স্বাতীকে বাঁচাতে ছুটে আসেন প্রতিবেশী বিজয় কুমার ও তাঁর স্ত্রী সুনিতা।

অভিযুক্ত ব্রহ্মপ্রকাশ এরপর ধারালো লোহার রড ও ছুরি নিয়ে ওই দম্পতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর অভিযুক্ত তাদের টেনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামায়। অত্যন্ত অমানবিক এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বিজয়, সুনিতা ও স্বাতীর মৃত্যু হয়। মৃতদেহগুলোর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ।

আগেও ছিল এমন অভিযোগ!
নিহত বিজয় কুমারের মেয়ে খুশি জানান, অভিযুক্ত ব্রহ্মপ্রকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। এর আগেও কয়েক মাস আগে সে স্বাতীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিল। সে সময় ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও, পরবর্তীতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হয়েছিল। খুশির আক্ষেপ, “যদি সেদিনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে হয়তো আজ আমার বাবা-মা বেঁচে থাকতেন।” তিনি অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি বা ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশি পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই কুন্ডলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এসিপি ভিপিন আহলাওয়াত জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হবে।

এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।