মানসিক নির্যাতন না কি আত্মহত্যা? ত্বিষা মৃত্যু মামলায় নতুন মোড়, জেরায় স্বামীর চাঞ্চল্যকর বয়ান

মডেল ও অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু মামলায় তদন্তভার এখন সিবিআই-এর হাতে। নতুন করে এফআইআর নথিভুক্ত করে স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি তথা প্রাক্তন বিচারক গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধে পণপ্রথাজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দিল্লি থেকে আগত বিশেষ অপরাধ দমন শাখার দল ইতিমধ্যেই তদন্তের কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের কেন্দ্রে স্বামীর বয়ান ও অসংগতি
গত তিন দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছে স্বামী সমর্থ সিংকে। সমর্থের দাবি, বিয়ের পর মার্চ মাস পর্যন্ত সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। ত্বিষার অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ও গর্ভপাত নিয়ে সমর্থ দাবি করেছেন, দুজনেই সন্তান চেয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শেই গর্ভপাত করানো হয়। তবে তদন্তকারীদের হাতে থাকা হোয়টসঅ্যাপ বার্তায় সমর্থের করা একটি মন্তব্য এই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সেই বার্তায় সন্তানের পিতৃত্ব নিয়েই সমর্থ সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। সিবিআই এখন এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে চিকিৎসার নথি সংগ্রহ করছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও ওষুধ বিতর্ক
সমর্থের দাবি, ত্বিষা ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’ ও ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছিলেন, তাই তাঁকে মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং তাঁকে মনোরোগের ওষুধ দেওয়া হতো। ত্বিষার ওজন কয়েক মাসে ১৫ কেজি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সিবিআই এখন খতিয়ে দেখছে, ওই ওষুধগুলো আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল কি না এবং তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণীর সম্মতি ছিল কি না।
ডিজিটাল প্রমাণ ও অন্যান্য অভিযোগ
তদন্তে বড় মোড় এনেছে মোবাইলের চ্যাট ডিলিট করার ঘটনা। অভিযোগ, সমর্থ নিজের মোবাইল থেকে ত্বিষা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে হওয়া একাধিক চ্যাট মুছে ফেলেছেন। ফরেন্সিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই বার্তা উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও, ত্বিষাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা এবং বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার যে অভিযোগ পরিবারের তরফে তোলা হয়েছে, তা নিয়েও সমর্থকে জেরা করছেন তদন্তকারীরা।
গিরিবালা সিং-এর ভূমিকা
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন শাশুড়ি গিরিবালা সিং-ও। সমর্থ দাবি করেছেন, মা দাম্পত্য অশান্তি মেটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু ত্বিষার অভিযোগ ছিল, গিরিবালা বরাবরই ছেলের পক্ষ নিতেন। সব মিলিয়ে, এই মৃত্যু আত্মহত্যা না কি গভীর কোনো ষড়যন্ত্র, তা খুঁজে বের করতে সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং ডিজিটাল তথ্যের ওপর এখন চূড়ান্ত ভরসা রাখছে সিবিআই।