প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস রাজস্থান! পশুদের দিয়ে কাজ করানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি সরকারের

রাজস্থানজুড়ে চলছে দাবদাহ। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করতেই প্রাণিকুলকে রক্ষা করতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজস্থান সরকার। প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে গৃহপালিত পশুদের বাঁচাতে রাজ্য প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে যে, তীব্র দাবদাহের সময় অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই পশুদের দিয়ে ভারী কাজ করানো যাবে না।
সরকারের নতুন নির্দেশিকা:
মুখ্য সচিব ভি. শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় কৃষক এবং পশুপালকদের জন্য এই কঠোর আদেশ জারি করা হয়েছে। যে সমস্ত অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, সেখানে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক।
যেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা:
ভারবাহী পশু: পণ্য পরিবহন বা ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
কৃষিকাজ: লাঙ্গল দেওয়া বা গাড়ি টানার কাজে নিযুক্ত বলদ ও মহিষকে এই সময়কালে বিশ্রাম দিতে হবে।
কেন এই সতর্কতা?
তীব্র সূর্যালোক ও তাপপ্রবাহের ফলে পশুদের হিটস্ট্রোক এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা অনেক সময় তাদের আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো পশুদের অকাল মৃত্যু ও শারীরিক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করা।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি:
রাজ্য সরকার সকল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই আদেশ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে:
নির্দিষ্ট ওই সময়ে পশুকে অবশ্যই ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
পর্যাপ্ত ঠান্ডা জল ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি, রাস্তাঘাটে বিচরণকারী পশু ও পাখিদের জন্যও জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
যদিও কৃষকদের একাংশের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাময়িকভাবে কিছু অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন তারা, তবুও পশুদের প্রতি এই মানবিক আচরণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।