সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে নতুন করিডোর! চীন থেকে ইউরোপে পণ্য পৌঁছাবে ১৫ দিন আগে

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে সংকটের জেরে বিশ্ববাণিজ্য এখন নতুন পথের সন্ধানে। এই পরিস্থিতিতে চীন থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের জন্য কাজাখস্তান এক বিশাল নতুন করিডোর তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই রেল নেটওয়ার্ক বিশ্ব বাণিজ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ‘মধ্য করিডোর’?
কাজাখস্তানের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি ‘কাজাখস্তান তেমির ঝোলি’-এর সিইও তালগাত আলদিবেরগেনভ জানিয়েছেন, হরমুজ সংকটের পর সমুদ্রপথের অনিশ্চয়তা এড়াতে চীনা কোম্পানিগুলো এখন স্থলপথের দিকে ঝুঁকেছে। তাদের তৈরি ‘ট্রান্স-কাস্পিয়ান আন্তর্জাতিক পরিবহন পথ’ (TITR) বা ‘মধ্য করিডোর’ চীনকে সরাসরি ইউরোপের সাথে যুক্ত করছে।
করিডোরের বিস্তার: ৪,২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে কাজাখস্তান, কাস্পিয়ান সাগর, আজারবাইজান, জর্জিয়া এবং তুরস্ক অন্তর্ভুক্ত।
সময় সাশ্রয়: সমুদ্রপথের তুলনায় এই পথে পণ্য পরিবহনে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় সাশ্রয় সম্ভব।
তুরস্কের ভূমিকা: এই পথ তুরস্কের বন্দরগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে জোরালো পদক্ষেপ
কাজাখস্তান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক আস্তানা বৈঠকে করিডোরটিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। ইবিআরডি (EBRD)-এর অর্থায়নে আকতাউ বন্দরের আধুনিকীকরণ এবং কাস্পিয়ান সাগরে নতুন জাহাজ ও ফেরি পরিষেবা চালুর কাজ পুরোদমে চলছে।
রেল নেটওয়ার্কের যে উন্নয়ন হচ্ছে:
চলতি মে মাসে আলতিনকল-ঝেতিগেন রেল লাইনের ২৯৩ কিলোমিটার আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন ১২টি স্টেশন চালু হয়েছে, যা পণ্য পরিবহনের গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।
দেশজুড়ে ৩,০০০ কিলোমিটার রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণের কাজ চলছে, যার ৯০০ কিলোমিটার ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা
কাজাখস্তানের ট্রানজিট কার্গোর পরিমাণ গত দশ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৪ সালে যা ২৭.৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। দেশটির লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী:
২০২৬ সালের মধ্যে: ৫৪ মিলিয়ন টন।
২০২৯ সালের মধ্যে: ৬৭ মিলিয়ন টন।
বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে, তখন কাজাখস্তানের এই সুরক্ষিত ও দ্রুততর বাণিজ্য পথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন ‘সিল্ক রোড’ হয়ে উঠতে পারে।