ফের কি যুদ্ধ শুরু? ইরানের বোট ও মিসাইল ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল আমেরিকা

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আলোচনার মধ্যেই নতুন করে যুদ্ধের দামামা। ইরানের বন্দর আব্বাসসহ একাধিক এলাকায় রহস্যময় বিস্ফোরণের রেশ কাটার আগেই, হরমুজ প্রণালীতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর ওপর বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল আমেরিকা। ইউএস সেন্ট্রাল কম্যান্ডের (CENTCOM) দাবি, আত্মরক্ষার স্বার্থেই তারা ইরানের বোড এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে।
কেন এই সংঘাত? আমেরিকার দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে আন্তর্জাতিক জলপথে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শান্তি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে ওই মাইন তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতেও ইরানি সেনা ফের মাইন পাতার চেষ্টা করছিল বলে আমেরিকার দাবি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আমেরিকান যুদ্ধবিমানগুলো সঙ্গে সঙ্গে এয়ার স্ট্রাইক শুরু করে।
পালটা হামলার মুখে ইরান: আমেরিকার বিমানবাহিনীর দাবি, এয়ার স্ট্রাইকের সময় হরমুজ প্রণালীর কাছে দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে আমেরিকান যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহার করে ওই ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আমেরিকার এক শীর্ষ কর্তা।
কী বলছে আমেরিকা ও ইরান? সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, গোটা বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত বজায় রেখে কেবল নিজেদের বাহিনী রক্ষার স্বার্থেই এই সংঘাত এড়াতে পারেনি। তবে এই হামলায় যুদ্ধবিরতিতে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই আমেরিকার ধারণা। অন্যদিকে, বন্দর আব্বাস, সিরিক ও জাস্ক শহরে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করলেও, ইরান সরকার এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শান্তি আলোচনা একদিকে চললেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্রমবর্ধমান এই সামরিক উত্তজনা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বিঃদ্রঃ খবরে ব্যবহৃত ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত