রান্নার গ্যাসে বড় বদল! PNG কানেকশন নিলেই সিলিন্ডার ছাড়তে হবে না, নতুন সুবিধা কেন্দ্রের

রান্নার গ্যাস গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে এলপিজি (LPG) ও পিএনজি (PNG) সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস সংশোধনী’ আইনের মাধ্যমে এখন থেকে গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুবিধা ও স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে।

বাধ্যতামূলক নয় সিলিন্ডার সারেন্ডার:
এতদিন নিয়ম ছিল, বাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস বা পিএনজি সংযোগ নিলে পুরনো এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ বা সারেন্ডার করতে হতো। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। এখন গ্রাহকদের সামনে থাকছে দুটি বিকল্প:

বিকল্প ১: পিএনজি কানেকশন নেওয়ার পর গ্রাহক চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে পুরনো এলপিজি সংযোগটি সারেন্ডার করতে পারেন।

বিকল্প ২: গ্রাহক চাইলে এলপিজি সংযোগটি পুরোপুরি বন্ধ না করে একটি ‘ট্রান্সফার ভাউচার’ নিয়ে রাখতে পারেন।

কাদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা?
বিশেষ করে যারা চাকুরিজীবী, পরিযায়ী পরিবার বা পড়াশোনার সূত্রে ঘনঘন এলাকা পরিবর্তন করেন, তাদের জন্য এই ‘ট্রান্সফার ভাউচার’ এক বড় প্রাপ্তি। অনেক সময় বদলির পর এমন এলাকায় যেতে হয় যেখানে পিএনজি সুবিধা নেই। সেক্ষেত্রে এই ভাউচার দেখিয়েই ফের এলপিজি সিলিন্ডার চালু করা যাবে। ফলে বারবার নতুন সংযোগ নেওয়ার ঝক্কি ও বাড়তি খরচ—উভয় থেকেই মুক্তি পাবেন গ্রাহকরা।

কেন এই পরিবর্তন?
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের জোগানে ঘাটতির কারণে অনেক সময় এলপিজি বুকিংয়ের পর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই অপেক্ষার ধকল কমাতেই সরকার পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি, আবেদনের মাত্র ৭ দিনের মধ্যে যাতে পিএনজি সংযোগের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তার জন্য গ্যাস সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তে এলপিজি ও পিএনজি পরিষেবার মধ্যে সমন্বয় আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি বিশেষত উপকৃত হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।