‘পুলিশ আর অপরাধী একই!’, বিডিও-র বেপরোয়া গতিবিধি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

নিউটাউনের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত, রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন আবারও শিরোনামে। অভিযোগ, গত ২৫ মে রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় তিনি এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

ঘটনার সূত্রপাত:
সূত্রের খবর, ২৫ মে রাত ১০টা নাগাদ প্রশান্ত বর্মনের গাড়িটি নিউটাউন এলাকায় এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনার সময় পুলিশি উপস্থিতিকে তোয়াক্কা না করেই তিনি গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে একজন সাহসী যুবক নিজের স্কুটি দিয়ে গাড়িটিকে আটকে ফেলে তাকে ঘিরে ধরে। যদিও সরকারিভাবে পুলিশ এই অপসারিত বিডিওকে গ্রেফতার করেছে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রশান্ত বর্মনকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশি চার্জশিটে তাঁকে ‘পলাতক’ দেখানো হয়েছে।

দিলীপ ঘোষের নিশানায় রাজ্য পুলিশ:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পুলিশ তো কাউকে খুঁজে পায় না, কারণ সন্ধেবেলা তাদের সঙ্গেই বসে খাওয়া-দাওয়া চলে। চোর-ডাকাতদের সঙ্গে যোগসাজশ রাখা পুলিশের অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে।” দিলীপ ঘোষের দাবি, পুলিশের মিথ্যা কথা বলা এবং নেতাদের সঙ্গে গা ঘষে চলার অভ্যেস অবিলম্বে বদলানো প্রয়োজন, অন্যথায় জনরোষের মুখে পড়তে হবে।

আধিকারিকদের ‘বিগড়ে যাওয়া’ নিয়ে মন্তব্য:
সরকারি আধিকারিকদের এহেন আচরণের জন্য সরাসরি রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “ওসি, আইসি থেকে শুরু করে বিডিও বা এসডিও—সবাইকে রাজনৈতিক কারণে খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেই অভ্যেস থেকে তারা বেআইনি কাজকেই এখন আইনি মনে করছে। নিজেদের অধিকার ফলিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত ও অত্যাচারিত করা হচ্ছে।”

জনরোষের সতর্কবার্তা:
মানুষের ধৈর্য যে ক্রমশ চ্যুত হচ্ছে, তা নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে। এই অত্যাচার সহ্য করার একটা সীমা আছে। পুলিশ যদি নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তবে এমন জনরোষ সৃষ্টি হবে যে কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না। এদের অবিলম্বে আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, নাহলে এদের ‘গ্যারেজ’ করা হবে।”

প্রশান্ত বর্মনের মতো একজন অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়ে জনমনে এখন প্রবল ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।