১০ দিনে চতুর্থবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি! ‘কিস্তিতে পকেট কাটা হচ্ছে’, মোদী সরকারকে তোপ রাহুলের

গত ১০ দিনে চারবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার দেশবাসী। সোমবার আবারও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো, যা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আবহে দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে এখন ধাপে ধাপে ‘কিস্তিতে’ জনগণের পকেট কাটছে সরকার।
রাহুল ও খাড়গের তোপ
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি লেখেন, “মুদ্রাস্ফীতির কারিগর মোদী আবারও তাঁর জাদু দেখিয়েছেন। আমি বেশ কয়েক মাস ধরেই অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছিলাম, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখন নির্বাচন শেষ হতেই সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে আঘাত হানছেন তিনি।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইউপিএ ও মোদী সরকারের আমলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আক্রমণ আরও জোরালো করেছেন। খাড়গে বলেন, “২০০৪-২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৭৫ শতাংশ বাড়লেও মোদী সরকারের আমলে সেই হারে বাড়েনি। অথচ মোদী জমানায় পেট্রোলের দাম ৭১ টাকা থেকে বেড়ে ১০২ টাকায় এবং ডিজেল ৫৬ টাকা থেকে ৯৫ টাকায় পৌঁছেছে।”
দাম বৃদ্ধির হালহকিকত
সোমবারের নতুন দর অনুযায়ী, দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৫.২০ টাকায় পৌঁছেছে। গত দুই সপ্তাহে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৭ টাকারও বেশি বেড়েছে। দেশের অন্যান্য প্রধান শহরের চিত্রটিও একই রকম:
কলকাতা: পেট্রোল ১১৩.৫১ টাকা, ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা।
মুম্বাই: পেট্রোল ১১১.২১ টাকা, ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা।
চেন্নাই: পেট্রোল ১০৭.৭৭ টাকা, ডিজেল ৯৯.৫৫ টাকা।
তেল সংস্থা ও সরকারি অবস্থান
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং গত কয়েক মাসের বিশ্ববাজারের অস্থির পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্যবৃদ্ধি। যদিও সরকারের তরফ থেকে এই ইস্যুতে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের সংসার খরচে বড়সড় টান ফেলেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বিরোধীদের এই আক্রমণ যে আসন্ন রাজনৈতিক দিনগুলোতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।