চিনকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত ভারত! মুকেশ আম্বানির হাত ধরে রোবোটিক্স দুনিয়ায় বিপ্লব অ্যাডভার্বের

বিশ্ববাজারে রোবোটিক্সের ক্ষেত্রে চিন, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর দাপটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কোমর বেঁধে নামছে ভারত। এই লড়াইয়ে ভারতের তুরুপের তাস হলো মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সমর্থিত স্টার্টআপ— অ্যাডভার্ব টেকনোলজিস লিমিটেড (Addverb Technologies)। সম্প্রতি বিশ্বের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে কোম্পানিটি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি নতুন তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

লক্ষ্য বিশ্বসেরার তালিকায় জায়গা করে নেওয়া
অ্যাডভার্বের সিইও সঙ্গীত কুমার জানিয়েছেন, তাদের তৈরি রোবটগুলো বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন লজিস্টিকস ফার্ম ও ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে পণ্য বাছাই থেকে শুরু করে মালপত্র ওঠানামার কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার তাদের লক্ষ্য হিউম্যানয়েড ও চতুষ্পদী রোবটের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বাজারে দখল নেওয়া। কুমারের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট— “আমরা আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের শীর্ষ ১০ এবং আগামী দশ বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৫ রোবোটিক্স কোম্পানির মধ্যে থাকতে চাই।”

রিলায়েন্সের বড় বাজি
২০২১ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এই স্টার্টআপে ১৩২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বর্তমানে কোম্পানিটির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। নতুন সংগৃহীত মূলধন মূলত ব্যয় করা হবে:

হিউম্যানয়েড রোবট: টেসলার ‘অপটিমাস’-এর মতো উন্নত মানের রোবট তৈরিতে বিনিয়োগ।

এআই উন্নয়ন: ডেটা সংগ্রহ ও উন্নত মেশিন লার্নিং সিস্টেম গড়ে তোলা।

স্বনির্ভর প্রযুক্তি: আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব ‘লাইডার সেন্সর’ প্রযুক্তি তৈরি।

সাফল্যের রূপরেখা
২০১৬ সালে চারজন প্রকৌশলীর হাত ধরে এশিয়ান পেইন্টস-এর প্রাক্তন কর্মীদের দ্বারা শুরু হয়েছিল এই স্টার্টআপ। বর্তমানে লেন্সকার্ট, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার এবং রিলায়েন্সের মতো বড় বড় কোম্পানি তাদের গ্রাহক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অ্যাডভার্ব তাদের আয়ের অর্ধেকই অর্জন করে ভারতের বাইরে থেকে। বর্তমানে দুই ডজনেরও বেশি দেশে তাদের ১,১০০ জন কর্মী কাজ করছেন।

মুনাফার দিকে যাত্রা
আর্থিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে সিইও সঙ্গীত কুমার জানান, গত দুই বছর আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তারের জন্য লোকসান হলেও, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে কোম্পানিটি সমন্বিতভাবে লাভজনক হওয়ার পথে। বর্তমানে কোম্পানির অর্ডার বুকের আকার প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং এই অর্থবর্ষে রাজস্ব ১৩ বিলিয়ন রুপি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যদিও আইপিও (IPO) নিয়ে এখনই কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে কুমার জানিয়েছেন, কোম্পানিটির রাজস্ব যখন ৪০-৫০ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাবে, তখন তারা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। চিনের সরকারি ভর্তুকি ও প্রাথমিক সুবিধার বিপরীতে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে ভারত যে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারে, অ্যাডভার্বের এই উত্থান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।