ইউপিএসসি প্রিলিমস ২০২৬! প্রশ্নের ধরনে বড় চমক! ইতিহাস-অর্থনীতিতে জোর, বদলে গেল প্রস্তুতির সমীকরণ

২৪শে মে অনুষ্ঠিত ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমস পরীক্ষা ২০২৬-এ প্রশ্নের ধরণ ও কাঠামোতে বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা গেল। পরীক্ষার্থীদের মতে, এবারের জিএস পেপার-১ ছিল প্রচলিত ধারার চেয়ে অনেকটাই আলাদা এবং জটিল। কেবল তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, বাস্তব পরিস্থিতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর জোর দেওয়ায় প্রশ্নপত্রটি যেন অনেকটা মেইনস পরীক্ষার ‘এথিকস’ পেপারের ধাঁচে তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতিহাস ও অর্থনীতির জয়জয়কার
পরীক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় ইতিহাস ও কলা ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৪০টি (প্রতিটি থেকে ২০টি) প্রশ্ন করা হয়েছে। এর পরপরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল অর্থনীতি (১৯টি) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (১৮টি) বিভাগ। ভৌগোলিক পরিবেশ নিয়ে ১৩টি এবং পরিবেশ ও বিবিধ বিভাগ থেকে ১১টি করে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ‘রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা’ বিভাগ থেকে মাত্র ৮টি প্রশ্ন করা হয়েছে, যা অনেক পরীক্ষার্থীর রণকৌশলকে এলোমেলো করে দিয়েছে।
বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতার পরীক্ষা
এবারের প্রিলিমসে ইউপিএসসি স্পষ্টতই প্রার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা এবং বাস্তববাদী চিন্তাভাবনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রশ্নগুলো বেশ দীর্ঘ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ-ভিত্তিক হওয়ায় তা সমাধানে অধিক সময় ব্যয় করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিএসসি এখন এমন আমলা খুঁজছে যারা চাপের মুখে তাৎক্ষণিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার ছোঁয়া
পরীক্ষা চলাকালীন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার ইউপিএসসি একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
নিরাপত্তা: বায়োমেট্রিক উপস্থিতি এবং কিউআর-কোড (QR-code) ভিত্তিক প্রবেশপত্র যাচাইকরণের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উত্তরপত্রের নতুন নিয়ম: এবার থেকে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরপত্র প্রকাশ করবে না। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর এই প্রিলিমস পরীক্ষা ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভিস প্রস্তুতির নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিল। যারা কেবল গতানুগতিক ধারায় পড়াশোনা করেছেন, তাদের জন্য এবারের প্রশ্নপত্র একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।