দিনে রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা, রাতে UPSC-র পড়া! মাত্র ২ বছরেই অল ইন্ডিয়া ৯৭ র‍্যাঙ্ক করে IAS হলেন এই তরুণী

দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিস পাশ করার জন্য প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজি থাকে। কেউ ঘরের দরজা বন্ধ করে দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করেন, আবার কেউ মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা পড়েই বাজিমাত করেন। তবে দিল্লির গ্রেটার কৈলাশের বাসিন্দা যশভী জৈনের (Yashvi Jain) গল্পটা একেবারেই আলাদা। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মনের জোর আর সঠিক জেদ থাকলে ফুল-টাইম চাকরি করার পাশাপাশিও দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বসা সম্ভব।

যেখানে দিন-রাত এক করে পড়েও অনেকে সামান্য নম্বরের জন্য ব্যর্থ হন, সেখানে যশভী দিনে একজন প্র্যাকটিসিং ডেন্টিস্ট (দন্তচিকিৎসক) হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা করতেন এবং রাতে মগ্ন থাকতেন ইউপিএসসি-র বই ও মক টেস্টে।

ডাক্তারি থেকে সিভিল সার্ভিসের যাত্রা:
যশভীর বাবা রাজীব জৈন এবং মা নীতু জৈন দুজনেই কর্পোরেট সেক্টরে কর্মরত। দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করার পর যশভী নিট (NEET) পরীক্ষায় সফল হন এবং ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি (BDS) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি একজন পেশাদার দন্তচিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

কিন্তু তাঁর মনের কোণে লুকিয়ে ছিল অন্য এক স্বপ্ন। যশভীর মামা ইন্ডিয়ান ইনফরমেশন সার্ভিস (IIS)-এর একজন পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। পরিবারের একমাত্র সরকারি চাকুরে মামাকে দেখেই যশভীর মনে সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের সেবা করার ইচ্ছে জাগে। এই যাত্রায় তাঁর মা-বাবাও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জোগান।

কঠিন রুটিন: দিনে স্টেথোস্কোপ, রাতে ইউপিএসসি নোটস!
একজন চিকিৎসকের পেশা এমনিতেই অত্যন্ত ব্যস্ততার। দিনের বেলা ক্লিনিকে রোগীদের দাঁতের জটিল সমস্যার সমাধান করতেন যশভী। আর বাড়ি ফিরে ক্লান্তি ভুলে রাতে বসে যেতেন ইউপিএসসি-র কঠিন সিলেবাস নিয়ে। তিনি সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতো সারাদিন পড়ার সুযোগ পেতেন না, তাই রাতের প্রতিটা মিনিটকে তিনি সর্বোচ্চ ব্যবহার করতেন।

সাফল্যের মূল চাবিকাঠি: যশভী ২০২৩ সালে প্রথমবার ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু যশভী হাল ছাড়েননি। নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় তিনি ফের বসেন। এবার আর কোনো খামতি ছিল না—সর্বভারতীয় স্তরে ৯৭তম র‍্যাঙ্ক (AIR 97) অর্জন করে সরাসরি আইএএস (IAS) অফিসার হন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের জন্য যশভীর মহামূল্যবান পরামর্শ:
নিজের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইএএস যশভী জৈন জানান, “ইউপিএসসি পাশ করার জন্য প্রতিদিন টানা ১০-১৫ ঘণ্টা বই খুলে বসে থাকা একেবারেই জরুরি নয়। আসল সিক্রেট হলো ‘কন্সিস্টেন্সি’ বা ধারাবাহিকতা। কোনো বিরতি ছাড়া প্রতিদিন নিয়ম মেনে অল্প সময় হলেও মন দিয়ে পড়াটাই আসল সফলতার চাবিকাঠি।” চাকরিজীবীদের জন্য যশভীর এই লড়াই আজ দেশের লাখ লাখ ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।