ইয়েস ব্যাংকের ৮,৪১৫ কোটির বন্ড কেলেঙ্কারিতে সুপ্রিম অ্যাকশন! মোদী ক্যাবিনেটের গোপন নথি তলব শীর্ষ আদালতের!

দেশের ব্যাংকিং ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিতর্কিত ইয়েস ব্যাংকের (Yes Bank) ৮,৪১৫ কোটি টাকার ‘অ্যাডিশনাল টিয়ার-১’ (AT-1) বন্ড মওকুফ সংক্রান্ত বিষয়ে এবার সরাসরি দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গোপন রেকর্ড (Cabinet Records) তলব করল শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে এই বন্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ বিলম্ব করার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রককে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে আজ বুধবার বিকেল ৩টের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণী, কোরামের বিবরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সভায় উপস্থিত সদস্যদের নামসহ সমস্ত মূল নথি পেশ করার চূড়ান্ত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রকের ওপর কেন ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট?
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পেশ করা যুক্তিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, ২০২৩ সালে কোন যুক্তিতে এবং কীসের ভিত্তিতে ৮,৪১৫ কোটি টাকার এটি-১ (AT-1) বন্ড মওকুফ করার মতো এত বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার সমস্ত ক্যাবিনেট প্রস্তাব ও সভার নথিপত্র আদালতের সামনে রাখতে হবে।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, যেদিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ‘কোরাম’ (ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা) উপস্থিত ছিল কি না।

কী এই ইয়েস ব্যাংক এটি-১ বন্ড বিতর্ক?
বিনিয়োগকারীদের টাকা মওকুফ: দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংক ‘ইয়েস ব্যাংক’ যখন দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়ে, তখন তাকে পুনরুজ্জীবিত করার নামে রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) এবং কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক একটি উদ্ধারকারী পরিকল্পনা (Rescue Plan) তৈরি করে। এর অধীনে ব্যাংকটির এটি-১ বন্ডে বিনিয়োগ করা ৮,৪১৫ কোটি টাকা এক ঝটকায় পুরোপুরি মওকুফ বা বাতিল করে দেওয়া হয়।

বিপাকে রিলায়েন্স ও আমজনতা: প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে রিলায়েন্স নিপ্পনের (Reliance Nippon) মতো নামী মিউচুয়াল ফান্ড যেমন রয়েছে, তেমনই ছিলেন হাজার হাজার সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারী (Retail Investors)। বন্ড মওকুফ হওয়ায় রাতারাতি এই বিপুল অঙ্কের টাকা হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েন তাঁরা।

বোম্বে হাইকোর্টের রায় ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল
নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে খুচরো এটি-১ বন্ডহোল্ডাররা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বোম্বে হাইকোর্ট বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দেয় এবং আরবিআই ও ইয়েস ব্যাংকের ৮,৪১৫ কোটি টাকার বন্ড মওকুফ করার ওই নির্দেশকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।

হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পরবর্তীতে ইয়েস ব্যাংক, আরবিআই এবং অর্থ মন্ত্রণালয় একযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর এবার খোদ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের ভেতরের নথি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। আজ বিকেল ৩টের পর কেন্দ্রের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে এই কোটি কোটি টাকার বন্ড হোল্ডাররা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন কি না, সেই ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে।