খামেনেইর বদলে চরম ইসরায়েল-বিরোধী আহমাদিনেজাদকে ইরানের মসনদে বসাতে চেয়েছিল ট্রাম্প! কিন্তু কেন? ফাঁস গোপন নথি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান গোপন শান্তি আলোচনার আবহেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে সেই পদে বসানোর একটি যৌথ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। তবে যুদ্ধের তীব্রতায় সেই গোপন পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

কিন্তু সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, খামেনেইর কট্টর বিরোধী ও চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত এই আহমাদিনেজাদ এখন কোথায়?

নিখোঁজ আহমাদিনেজাদ: ইসরায়েলি হামলার পরেই কি উধাও?
প্রতিবেদন অনুসারে, ওয়াশিংটন বা তেল আবিব—কোনো পক্ষই এখন আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধের শুরুর দিকেই আহমাদিনেজাদের তেহরানের বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। সেই হামলার পর থেকেই এই সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্টের আর কোনো খোঁজ মিলছে না।

আমেরিকা ও ইসরায়েলের ‘শত্রু’ হয়েও কেন ট্রাম্পের পছন্দের পাত্র আহমাদিনেজাদ?
যিনি চিরকাল ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কথা বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক বোমার সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিলেন, তাঁকে কেন হোয়াইট হাউস ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চাইল? বিশ্লেষকরা বলছেন এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক চাল।

জনমোহিনী ভাবমূর্তি ও ক্ষমতা: কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসির মতে, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভীর ওপর আস্থা হারিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাহলভীর পরিবার ক্ষমতা হারিয়েছিল। বিপরীতে, আহমাদিনেজাদ ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থারই অংশ এবং দেশটির শক্তিশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস’ (IRGC)-এর ভেতর তাঁর গভীর প্রভাব রয়েছে।

বিচিত্র রাজনৈতিক চরিত্র: তেল আবিবের ‘জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক রাজ জিম্মতের মতে, আহমাদিনেজাদ কট্টরপন্থী হলেও তাঁর কিছু জনতুষ্টিমূলক নীতি ছিল। তিনি রক্ষণশীল হওয়া সত্ত্বেও নিজের মন্ত্রিসভায় নারীদের স্থান দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর ক্যাবিনেটে এমন কিছু নরমপন্থী মন্ত্রী ছিলেন যারা ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, এবং আহমাদিনেজাদ তাঁদের বরখাস্ত করেননি। এই নমনীয়তাই হয়তো আমেরিকার নজর কেড়েছিল।

খামেনেইর মৃত্যুর পর তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি:
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে এক বড়সড় রাজনৈতিক শূন্যতা ও অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৬ই মার্চ খামেনেইর পুত্র মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মোজতবাকে ইরানের বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মোজতবাকে তাঁর বাবার তুলনায় “কম উগ্রপন্থী এবং একজন বিচক্ষণ প্রশাসক” হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। তবে পর্দার আড়ালে আহমাদিনেজাদকে নিয়ে যে খেলাটি আমেরিকা ও ইসরায়েল খেলতে চেয়েছিল, তা ফাঁসের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।