আকাশে ওড়া বিমানের ছবি তোলাই কাল! দুবাইয়ে গোপালগঞ্জের যুবকের ১০ বছরের জেল, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

সামান্য একটি ছবি যে কোনো মানুষের জীবনকে এভাবে ওলটপালট করে দিতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি বিহারের গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম। দুবাইয়ের আকাশে উড়ে যাওয়া একটি বিমানের ছবি তুলে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করার অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এই ভারতীয় যুবককে। এই মর্মান্তিক খবরের পর থেকেই নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে যুবকের পরিবারে। ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন প্রশাসনের দরবারে চক্কর কাটছেন অসহায় বাবা-মা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জের নগর থানা এলাকার রফি ইন্দারওয়া গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল মিয়ার ছেলে ওয়াসিম আকরাম প্রায় ২২ মাস আগে উপার্জনের উদ্দেশ্যে দুবাই পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখান থেকে টাকা পাঠিয়েই কোনোমতে চলত তাঁর দরিদ্র পরিবারের ভরণপোষণ। কিন্তু একটি অজান্তেই করা ভুল সবকিছু শেষ করে দিল।

জাতীয় নিরাপত্তায় আঘাতের অভিযোগ
জানা গেছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে। এই চরম সংবেদনশীল পরিস্থিতির মাঝেই একদিন দুবাইয়ের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি সামরিক বা বিশেষ বিমানের ছবি নিজের মোবাইল ফোনে বন্দি করেন ওয়াসিম। বিষয়টি যে কতটা গুরুতর হতে পারে, তা বুঝতে না পেরে তিনি ছবিটি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আপলোড করে দেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। দুবাইয়ের রাসেল খেমা রামস থানার পুলিশ ওয়াসিমকে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে স্থানীয় আদালত এই বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বড়সড় আঘাত এবং গুপ্তচরবৃত্তির সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে ওয়াসিমকে ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

ছেলের মুক্তির দাবিতে আকুল পরিবার
বিদেশের মাটিতে ছেলের এই সাজার খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোপালগঞ্জের পরিবারটি। ছেলের মুক্তির উপায় খুঁজতে তাঁরা সম্প্রতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (DM) সঙ্গে দেখা করেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জেলা প্রশাসনও বিষয়টির সংবেদনশীলতা বুঝতে পেরেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে। সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওয়াসিমকে কূটনৈতিক উপায়ে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এখন ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের দিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছে ওয়াসিমের পরিবার।