ক্লাসে ৩৪% নম্বর, ২৪টি বিষয়ে ব্যাকলগ! সব রেকর্ড ভেঙে কীভাবে আইপিএস অফিসার হলেন এই ‘ব্যাকবেঞ্চার’?

বোর্ড পরীক্ষায় কম নম্বর এসেছে? কিংবা কলেজের সেমিস্টারে একের পর এক বিষয়ে ব্যাকলগ খেয়ে হতাশায় দিন কাটছে? তবে আইপিএস অফিসার সমীর শর্মার এই রূপকথার মতো লড়াইয়ের গল্পটি আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমাদের সমাজ সাধারণত রিপোর্ট কার্ডের নম্বর দেখেই একজন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু সমীর প্রমাণ করে দিয়েছেন, মার্কশিটের নম্বর কখনো আসল জীবন বা সাফল্য নির্ধারণ করতে পারে না; মানুষের সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের শিখরে।
স্কুল ও কলেজে যাকে একসময় ‘ব্যর্থ’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল, সেই ছাত্রই পরবর্তীতে এমন এক সাফল্যের ইতিহাস লিখেছেন, যা আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৪টি ব্যাকলগ! চরম হতাশার দিনগুলো
দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় সমীর পেয়েছিলেন মাত্র ৫৭ শতাংশ নম্বর। একাদশ শ্রেণিতে সেই গ্রাফ আরও নেমে গিয়ে দাঁড়ায় মাত্র ৩৪ শতাংশে! এরপর কোনোমতে দ্বাদশ শ্রেণিতে ৬০ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করেন। স্কুলজীবনের এই সাদামাটা রেজাল্টের পর সমীর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু কলেজের চৌকাঠে পা দিয়েও তাঁর পড়াশোনার ভাগ্যে কোনো বদল আসেনি। স্কুলের মতো কলেজেও তিনি ব্যাকবেঞ্চারই থেকে যান। ফলস্বরূপ, বি.টেক করার সময় মোট ২৪টি বিষয়ে ব্যাকলগ (ফেল) আসে তাঁর। এমন বিপর্যয় যে কোনো তরুণকেই অবসাদের অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। সমীরও সাময়িকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, কিন্তু হার মানেননি। কোনো রকমে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিটা হাতে পাওয়ার পরেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেন। ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা ‘ইউপিএসসি’ (UPSC) দেওয়ার জন্য নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।
১৮ মাসের তপস্যা এবং ব্যর্থতার তকমা মোচন
যে ছেলেটি স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত শুধু ব্যর্থতার তকমা বয়ে বেরিয়েছে, সে যখন সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি শুরু করে, তখন অনেকেই হয়তো মনে মনে হেসেছিলেন। কিন্তু সমীর এক অদ্ভুত ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ময়দানে নেমেছিলেন। তিনি নিজের ওপর কোনো বাড়তি চাপ নেননি, শুধু নিজের প্রতি সৎ থেকে দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করে গেছেন।
সবচেয়ে বড় কথা, সমীর নিজেকে কখনো কোনো আইআইটি (IIT) বা আইআইএম (IIM) টপারের চেয়ে কম বুদ্ধিমান বা নিকৃষ্ট মনে করেননি। কারোর সাথে নিজের তুলনা না করে, টানা ১৮ মাস একাগ্র চিত্তে প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি। আর এই দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমেরই মিষ্টি ফল পান হাতেনাতে।
ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা
২০১১ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় দেশজুড়ে ১৮২তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তাক লাগিয়ে দেন সমীর শর্মা। এজিএমইউটি (AGMUT) ক্যাডারের একজন দাপুটে আইপিএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।
আজকের দিনে যেখানে সামান্য নম্বর কম পেলে বা পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে ছাত্রছাত্রীরা ভেঙে পড়ে, চরম সিদ্ধান্ত নেয় কিংবা জীবনে এগিয়ে যাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলে, সেখানে আইপিএস সমীর শর্মার এই জার্নি এক নতুন আলোর দিশারী। তিনি প্রমাণ করেছেন, অতীত যেমনই হোক না কেন, কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে জীবনের যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের নতুন ইতিহাস লেখা সম্ভব।