কাশ্মীরে কসাইয়ের মারাত্মক কীর্তি! অসুস্থ গরুর মাংস খেতেই শোরগোল, মাঝরাতে লাইন পড়ল হাসপাতালে

উপত্যকায় এবার এক অদ্ভুত আর হাড়হিম করা আতঙ্ক। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পারিগাম এলাকায় একটি মারাত্মক গুজব ছড়িয়ে পড়তেই কার্যত বিনিদ্র রজনী কাটল কয়েকশো মানুষের। এলাকার এক নামী কসাই নাকি গোপনে জলাতঙ্কে (Rabies) আক্রান্ত একটি পশুর মাংস স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দেদার বিক্রি করেছেন— এই খবর চাউর হতেই থমথমে হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমে পড়েছে জম্মু-কাশ্মীরের স্বাস্থ্য বিভাগ। পারিগাম এলাকায় শুরু হয়েছে এক বিশাল জরুরি জলাতঙ্ক টিকাদান কর্মসূচি (Anti-Rabies Vaccination Drive)। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০০ থেকে ২৫০ জন সাধারণ মানুষকে এই প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে।

১২ ঘণ্টায় ১০০ পার! হাসপাতালের সামনে উপচে পড়া ভিড়
স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, একটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত পশুর মাংস খাওয়ার খবর ছড়াতেই পারিগামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (PHC) মানুষের ঢল নামে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্যাকসিনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন আতঙ্কিত বাসিন্দারা।

মেডিক্যাল টিমগুলি দিনরাত এক করে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের টিকাকরণ সম্পন্ন করে। পুলওয়ামার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (CMO) ডা. তেহমিনা জামিল জানিয়েছেন, টিকাদানের গতি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে এই সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মাংস ধোয়ার সময় কেটে গেলেই বিপদ! ঠিক কী বলছেন চিকিৎসকরা?
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। জলাতঙ্ক আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে কি সত্যিই মানুষ এই মারণ রোগে আক্রান্ত হতে পারে?

এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জুরিদা। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের এখনই চূড়ান্ত আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিজ্ঞানসম্মতভাবে, যেকোনো মাংস যদি খুব উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে বা ভালো করে রান্না করে খাওয়া হয়, তবে তার ভেতরের বেশিরভাগ ব্যাকটিরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়। তবে আসল বিপদ লুকিয়ে অন্য জায়গায়। কাঁচা মাংস কাটার সময় বা তা ধোয়ার সময় যদি অসাবধানতাবশত কারও হাত কেটে যায়, তবে সেই ক্ষতের মাধ্যমে রক্তে সংক্রমণ ছড়ানোর একটা বড় ঝুঁকি থেকে যায়। আর এই কারণেই সুরক্ষাকবচ হিসেবে সবাইকে আগাম টিকা দেওয়া হচ্ছে।

শ্রীঘরে কসাই, তদন্তে নামল পুলিশ
বিষয়টি নিয়ে পারিগামজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় পুলিশ একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে বড়সড় তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমিধ্যেই অভিযুক্ত কসাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, কসাইটি একটি অত্যন্ত অসুস্থ গরু জবাই করে তার মাংস বিক্রি করছিলেন। তবে সেই গরুটি আসলেই জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা, তা এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই কসাই ঠিক কার কাছ থেকে এই অসুস্থ গরুটি কিনেছিলেন, তা জানতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই ঘটনার প্রতি মুহূর্তের আপডেট আমাদের নজর থাকবে।