১৩ থেকে সোজা ৮! মন্ত্রীদেরও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

ক্ষমতার জৌলুস ঝেড়ে ফেলে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব। ভিআইপি সংস্কৃতির রাশ টানতে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নিজের নিরাপত্তা বলয় ও গাড়িবহরে বড়সড় কাটছাঁট করলেন তিনি। এখন থেকে তাঁর কনভয়ে বা গাড়িবহরে কোনো বাড়তি জাঁকজমক থাকবে না, থাকবে কেবল ন্যূনতম ও অত্যন্ত জরুরি কয়েকটি গাড়ি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই আমজনতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল—সব জায়গাতেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। শুধু নিজের গাড়িবহর ছোট করাই নয়, রাজ্যের বাকি মন্ত্রীদেরও অপ্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহার বন্ধ করার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
১৩ থেকে একঝটকায় ৮ গাড়ি, বন্ধ র্যালি
মধ্যপ্রদেশ সরকারের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে আর আগের মতো ১৩টি গাড়ি থাকবে না। সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৮টি করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী যখন রাজ্যের কোনো এলাকায় সফরে যাবেন, তখন তাঁকে স্বাগত জানাতে বা তাঁর সাথে ঘোরার জন্য কোনো রকম যানবাহন র্যালির আয়োজন করা যাবে না।
এমনকি নবনিযুক্ত কর্পোরেশন ও বোর্ডের কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন অত্যন্ত সাদামাটাভাবে এবং কোনো রকম আড়ম্বর বা গাড়ির মিছিল ছাড়াই নিজেদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আহ্বান
এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ বার্তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডঃ মোহন যাদব। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি জাতীয় স্বার্থে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর সেই ডাকে সাড়া দিয়েই মধ্যপ্রদেশ সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ আমাদের কাছে সবকিছুর ওপরে।”
মেট্রোয় চড়ে সাধারণ মানুষের সাথে সফর
নিজের এই বার্তার সপক্ষে নিজেই উদাহরণ তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি নতুন দিল্লি সফরে গিয়ে তিনি কোনো বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার না করে সোজা সাধারণ মানুষের সাথে মেট্রোয় যাতায়াত করেন। শিবাজি স্টেডিয়াম মেট্রো স্টেশন থেকে এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস লাইন পর্যন্ত সাধারণ যাত্রীদের ভিড়েই সফর করেন তিনি।
মেট্রো সফরের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ডঃ মোহন যাদব মধ্যপ্রদেশের সাধারণ মানুষকেও একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও দেশের জ্বালানি বাঁচাতে সাধারণ মানুষও যেন বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি এড়িয়ে যতটা সম্ভব গণপরিবহন (মেট্রো, বাস ইত্যাদি) ব্যবহার করেন।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই “নো-ভিআইপি” নীতি দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।