মমতার ঘনিষ্ঠ থেকে নতুন সরকারের কাছে আর্জি! নবান্নে পরিবর্তনের পরই কেন মুখ খুললেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর বাংলায় পথ চলা শুরু করেছে নতুন বিজেপি সরকার। নবান্নে ক্ষমতার এই অলিন্দ বদলের পর স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ। এই নতুন রাজনৈতিক আবহে এবার রাজ্যের বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ এবং শিল্পীদের রুজি-রুটি নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। নতুন গেরুয়া সরকারের কাছে বাংলা তথা দেশের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য এক বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

নতুন সরকারের কাছে কী চান ইমন?
বিগত জমানার পালাবদলের পর রাজ্যের সংস্কৃতি মহলের একাংশের মধ্যে যখন এক প্রচ্ছন্ন আশঙ্কার চোরাস্রোত বইছে, ঠিক তখনই অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিলেন ইমন। নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশা স্পষ্ট করে গায়িকা বলেন, “আমি চাই আমাদের আরও অনেক বেশি করে শো হোক। লাইভ শো হলো আমাদের মতো প্রত্যেক শিল্পীর আসল উপার্জনের রাস্তা। রেকর্ডিং বা অন্য কোনো কাজে উপার্জনের পথ এতটা খোলা থাকে না, যেটা একমাত্র স্টেজ শো-এর ক্ষেত্রে থাকে।”

এর পরপরই নতুন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে ইমন বলেন, “আমি চাইব দল, মত, ধর্ম কিংবা বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক শিল্পী যাতে সমানভাবে কাজ করতে পারেন। কোনো রাজনৈতিক রঙ যেন শিল্পীদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা না হয়। আমি চাই বাংলায় আরও বেশি করে কাজ আসুক, যাতে সবাই সুস্থভাবে বাঁচতে পারেন।”

মমতার ঘনিষ্ঠতা ও বিধানসভা নির্বাচনের ‘সবুজ’ চর্চা
ইমন চক্রবর্তীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা তৈরি করেছে, কারণ তিনি বরাবরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের শিল্পী হিসেবে পরিচিত। চলতি বছরের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ইমনের ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থী হিসেবে দেখা না গেলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে রাজপথে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে জোরকদমে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল ইমনকে। তৎকালীন শাসক দলের হয়ে রাজ্যজুড়ে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ গেয়েছিলেন তিনি।

‘চটিচাটা’ কটাক্ষ ও সোশ্যাল মিডিয়া বিতর্ক
তৃণমূলের হয়ে প্রচার করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল এই গায়িকাকে। বিতর্ক এমন স্তরে পৌঁছায় যে, ইমনের প্রয়াত মায়ের মৃত্যুদিনেও নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘চটিচাটা’ বলে কুরুচিকর আক্রমণ শানায়। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একসময় পাকাপাকিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমন।

পরবর্তীকালে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইমনকে সান্ত্বনা দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, কিছু সমাজবিরোধী মানুষের নোংরা মন্তব্যের জন্য যেন তিনি সামাজিক মাধ্যম না ছাড়েন। সেই ধকল কাটিয়ে ইমন আবার ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে নিজের নতুন গানের প্রচারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা মজার মুহূর্ত অনুরাগীদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছেন।

আশাবাদী টলিউডের সংস্কৃতি মহল
বঙ্গে নতুন সরকার আসার পর ইমনের মতো টলিউডের আরও অনেক শিল্পীই এখন আশাবাদী যে, বাংলায় এবার এক সুস্থ সংস্কৃতির পরিবেশ তৈরি হবে। কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কার আদর্শ কী, তা বিচার করে কাজ পাইয়ে দেওয়া বা কাজ কেড়ে নেওয়ার যে ‘দলদাসত্ব’ সংস্কৃতি এতদিন তৈরি হয়েছিল, নতুন জমানায় তার অবসান ঘটবে—এমনটাই আশা করছেন রাজ্যের মুক্তমনা শিল্পীরা।