সাত মাসের মাথায় এল ৪ সন্তান! প্রথম আর শেষ শিশুর বয়সের ফারাক ৫ দিন, তাজ্জব চিকিৎসকরাও

বিজ্ঞানের বিস্ময় নাকি ঈশ্বরের আশীর্বাদ? উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের তীর্থঙ্কর মহাবীর বিশ্ববিদ্যালয় (TMU) হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এক বিরল ঘটনা এখন গোটা দেশে চর্চার বিষয়। সম্ভল জেলার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী আমিনা ৫ দিনের ব্যবধানে জন্ম দিলেন চার-চারটি সুস্থ সন্তানের। চিকিৎসকদের সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মা ও চার নবজাতকই এখন বিপদমুক্ত।

চিকিৎসকদের পরামর্শ বনাম পরিবারের বিশ্বাস
সম্ভলের আসমোলি এলাকার বাসিন্দা আমিনা যখন প্রথম অন্তঃসত্ত্বা হন, তখনই পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে তাঁর গর্ভে চারটি ভ্রূণ বেড়ে উঠছে। চিকিৎসকরা এই গর্ভাবস্থাকে ‘হাই-রিস্ক’ বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। মা ও শিশুদের জীবনের সুরক্ষার স্বার্থে ভ্রূণের সংখ্যা কমানোর জন্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শও দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু আমিনার পরিবার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ঈশ্বরের ওপর ভরসা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের সেই বিশ্বাসের জয় হয়েছে বলেই মনে করছেন পরিজনরা।

৫ দিনের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা
গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ ও লিভারের সমস্যায় একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল আমিনাকে। একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কড়া নজরদারিতে ছিলেন তিনি। গত ৮ মে তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং ৯ মে তিনি প্রথম একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির ওজন ছিল মাত্র ৭১০ গ্রাম। গর্ভাবস্থা মাত্র সাড়ে ছয় মাসের হওয়ায় চিকিৎসকরা বাকি তিনটি প্রসব সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন।

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১৪ মে আবারও আমিনার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমেই আরও একটি পুত্র এবং দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। অর্থাৎ, প্রথম ও শেষ সন্তানের জন্মের ব্যবধান দাঁড়াল দীর্ঘ ৫ দিন।

চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নবজাতকরা
বর্তমানে মা ও তাঁর চার সন্তানই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ডাঃ শুভ্রা আগরওয়াল, ডাঃ পূর্তি, ডাঃ রোলি এবং ডাঃ মনিকার নেতৃত্বাধীন বিশাল একটি মেডিকেল টিম এই অসাধ্য সাধন করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও বাকিদের ওজন কম হওয়ায় বিশেষ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে।

সন্তানদের বাবা মহম্মদ আলিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, প্রথম থেকেই টিএমইউ হাসপাতালের ওপর তাঁর অগাধ আস্থা ছিল। সাত সমুদ্র তেরো নদীর রূপকথার মতো একই সঙ্গে চার সন্তানকে কোলে পেয়ে খুশি আর ধরে না এই পরিবারের।