পকেটে টান! রান্নার তেল থেকে যাতায়াত খরচ, এক ধাক্কায় দাম বাড়ছে সবকিছুর?

আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর বহুমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাপনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য সরাসরি আঘাত হানবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। যেহেতু শাকসবজি, ফলমূল এবং দুধ মূলত ডিজেলচালিত ট্রাকের মাধ্যমে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পৌঁছায়, তাই পরিবহন খরচ বাড়লে বিক্রেতারা সেই বাড়তি বোঝা সাধারণ ক্রেতাদের ওপরই চাপিয়ে দেবেন। ফলে আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত খাবারের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিমানের টিকিট ও অনলাইন পরিষেবাতেও অস্বস্তি
জ্বালানির দাম বাড়ার আঁচ লেগেছে আকাশপথেও। হরমুজ প্রণালীর অস্থির পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া বাড়তে শুরু করেছে, যা ছুটির মরসুমে পর্যটকদের জন্য দুঃসংবাদ হতে পারে।
অন্যদিকে, ই-কমার্স এবং ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলিও তাদের অপারেশনাল খরচ সামলাতে ডেলিভারি চার্জ বা প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়িয়ে দিতে পারে। দিল্লিতে সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে ২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অন্যান্য বড় শহরেও অটো ও ট্যাক্সির ভাড়া বাড়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
কৃষিক্ষেত্রে অশনি সংকেত
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কৃষিক্ষেত্রে। চাষের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও সেচ পাম্প মূলত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষের খরচ বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত খুচরো বাজারে ফসলের দাম বাড়িয়ে দেবে।
সব মিলিয়ে, মুদ্রাস্ফীতির এই নতুন ঢেউ মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে বড়সড় টান দিতে চলেছে বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।