কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা? তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন অনেকেই! স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে রীতিমতো ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই একের পর এক জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মন্ত্রিসভা। বুধবার নবান্নে আয়োজিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। আর এই আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে মহিলাদের দুশ্চিন্তা কমাতে এবার বড় ঘোষণা করলেন পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আর লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না, ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

আবেদন হবে জলের মতো সহজ
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আগে দুয়ারে সরকারের লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে হতো। কিন্তু আমি আমার দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশ দিয়েছি যাতে দ্রুত অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়। আবেদন প্রক্রিয়া এতটাই সহজ করা হবে যে, শিক্ষিত হোন বা না হোন, বাংলার প্রত্যেক মা-বোন যাতে সহজেই পোর্টালে গিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন, আমরা সেই ব্যবস্থাই করছি।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরা কি টাকা পাবেন?
এই প্রশ্নটি এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার মনে। এর উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তারা সবাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় আসবেন। কোনো কাটমানি বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা পৌঁছে যাবে।

কারা বাদ পড়বেন তালিকা থেকে?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করার আগে একটি বিশেষ স্ক্রিনিং বা বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ।

যারা ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন কিন্তু তালিকায় নাম রয়ে গেছে, তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

যারা ভারতের নাগরিক নন, অথচ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন, তারা কোনোভাবেই এই টাকা পাবেন না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, সরকারি কোষাগারের টাকা শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছাবে। কোনো ‘অভারতীয়’ বা মৃত ব্যক্তির নামে এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া চলবে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৫০০ টাকার বদলে ৩০০০ টাকা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া ১ জুন থেকে শুরু হওয়ায় খুশির হাওয়া বাংলার অন্দরমহলে।