চন্দ্রনাথ রথ খুনে ঝাড়খণ্ড কানেকশন! ১ লক্ষ টাকার সুপারি, নম্বর প্লেট বদল— সিবিআই জেরায় মায়াঙ্কের হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি

চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে এবার রীতিমতো সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো চাঞ্চল্যকর মোড়। খুনের জন্য ব্যবহৃত নিসান মাইক্রা গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে বারাসাত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে যে এক বিশাল বড় চক্র কাজ করছিল, তা কার্যত স্পষ্ট। ধৃত মায়াঙ্ক মিশ্রকে ম্যারাথন জেরা করে সিবিআই আধিকারিকরা এখন সেই ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর সন্ধানে, যিনি ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মায়াঙ্ককে এই ‘সুপারি’ দিয়েছিলেন।
১ লক্ষ টাকার ডিল ও নম্বর প্লেটের কারসাজি
সিবিআই সূত্রে খবর, মায়াঙ্ক নিজেই নিসান মাইক্রা গাড়িটি চালিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসেন। কিন্তু ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা ছিল আততায়ীদের। নিবেদিতা টোল প্লাজায় পৌঁছানোর কয়েক কিলোমিটার আগেই মায়াঙ্ক গাড়ি থামিয়ে আসল নম্বর প্লেটটি খুলে ফেলেন। সেখানে লাগানো হয় শিলিগুড়ি আরটিও (RTO) থেকে রেজিস্ট্রেশন করা একটি ভুয়া নম্বর। টোল প্লাজা পেরোনোর ঠিক আগেই গাড়ির আসল নম্বর প্লেটটি রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া হয়। মায়াঙ্ক জানান, অনলাইনে টোল মিটিয়ে তিনি নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
খুনের গাড়ির শেষ গন্তব্য ছিল বারাসাত
তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, মায়াঙ্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গাড়িটি বারাসাতের ১১ নম্বর রেল গেটের কাছে রেখে চলে যেতে। সেই মতো গাড়িটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে মায়াঙ্ক বাসে চেপে এয়ারপোর্ট এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে ফাস্ট ফুড খেয়ে একটি ক্যাব নিয়ে সোজা হাওড়া স্টেশন এবং তারপর ট্রেনের মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের বক্সারে ফিরে যান তিনি। বৃহস্পতিবার মায়াঙ্ককে সঙ্গে নিয়েই এই সমস্ত সম্ভাব্য রুটগুলি ঘুরে দেখেন সিবিআই কর্তারা।
রহস্যময় দ্বিতীয় গাড়ি ও তিন আরোহী
মায়াঙ্ককে জেরায় আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, নিসান মাইক্রা ছাড়াও আরও একটি গাড়ি তিনজন আরোহীকে নিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে বারাসাতে এসেছিল। কিন্তু এই তিন রহস্যময় ব্যক্তি কারা? তাঁরা কি খুনের ঘটনায় ধৃত ভিকি ও রাজ সিং, নাকি বাইরে থেকে আসা অন্য কোনো শার্প শুটার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন মরিয়া কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
সিবিআই-এর নজরে এখন ঝাড়খণ্ডের সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি মায়াঙ্ককে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার বরাত দিয়েছিলেন। গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই ব্যক্তিই খুনের মূল সুপারি নিয়েছিলেন এবং তিনিই পুরো নীল নকশা তৈরি করেছিলেন। ঝাড়খণ্ডের এই অপরাধী চক্রের জাল কতটা গভীরে, তা জানতেই এখন তদন্তের সবটুকু ফোকাস সেদিকে রাখা হয়েছে।