‘বেনো জল বিদায় হোক!’ তৃণমূল হারতেই কি শুদ্ধিকরণ শুরু? মমতা-অভিষেকের দুঃসময়ে কাদের দিকে আঙুল তুললেন সায়নী?

রাজ্যে রাজনীতির রঙ বদলেছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নে এখন পদ্ম শিবিরের আধিপত্য। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের এই অপ্রত্যাশিত হারের পর যখন দলের অন্দরে ভাঙন আর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিলেন যুব তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়ে তিনি সাফ জানালেন, এখন যারা দল ছাড়ছেন, তাঁরা আসলে ‘বেনো জল’।
সায়নীর তোপ: শুদ্ধিকরণের সময় এসেছে
তৃণমূলের হারের পর থেকেই দলের অনেক নেতা-কর্মীর সুর বদলাতে শুরু করেছে। এই ‘দলত্যাগী’ এবং ‘সুবিধাবাদী’ মনোভাবকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সায়নী। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খারাপ সময়ে যাঁরা তাঁর হাত ছেড়ে দিচ্ছেন, তাঁরা পার্টির ক্ষেত্রে বিষাক্ত বেনো জল ছাড়া আর কিছুই নন। এই বেনো জল যত দ্রুত দল থেকে বেরিয়ে যাবে, ততই মঙ্গল।” সায়নীর এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, হারের গ্লানি কাটিয়ে দল এবার ‘শুদ্ধিকরণ’ বা দল গোছানোর পথে হাঁটতে চাইছে।
মমতার পাশে থাকার শপথ
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েট নেতার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সায়নী ঘোষের এই বার্তা আদতে সেইসব সুবিধাবাদী নেতাদের প্রতি এক কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতায় না থাকলেও তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না এবং কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকবে না, তাঁদের দলে কোনো জায়গা হবে না।
তৃণমূলের অন্দরে কি তবে চরম কোন্দল?
সায়নী ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূল এখন বড়সড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে হারের ধাক্কা সামলানো, অন্যদিকে নিজেদের ঘর সামলানো— জোড়া চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে সায়নীর এই ‘বেনো জল’ তত্ত্ব কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপি যখন বিজয় উল্লাস করছে, তখন সায়নীর এই মন্তব্য তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মনে কতটা অক্সিজেন জোগায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।