ডিগবাজি খেলেন ট্রাম্প! ‘চীনকে লাগবে না’ বলেও কেন চুপিচুপি জিনপিংয়ের দরবারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এক নাটকীয় মোড়। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দম্ভ করে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে তাঁর চীনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই, সেই ট্রাম্পকেই দেখা গেল বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার টানা তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে শেষ পর্যন্ত কি বেইজিংয়ের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে? এই প্রশ্নই এখন বিশ্বজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প-জিনপিং
স্থানীয় চীনা সংবাদমাধ্যম ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। যদিও হোয়াইট হাউস বা বেইজিং— কোনো পক্ষই আলোচনার বিস্তারিত খোলসা করেনি, তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন চীনের প্রভাবকে ব্যবহার করতে মরিয়া।
ভোলবদল না কি কৌশল?
যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প সাফ জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে তাঁর বেইজিংয়ের সাহায্য লাগবে না। কিন্তু বেইজিং পৌঁছানোর আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বয়ান ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি স্পষ্ট করে দেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানকে শান্ত করতে চীন যেন চাপ সৃষ্টি করে, সেটাই চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই বৈপরীত্যই প্রমাণ করছে যে, ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়া বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন ট্রাম্পের জন্য চীন অপরিহার্য?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনটি কারণে ট্রাম্পের জন্য চীন এখন ‘তুরুপের তাস’:
ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ: চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ইরান তাদের সিংহভাগ তেল বিক্রি করে চীনের কাছে এবং বিনিময়ে পায় আধুনিক সমরাস্ত্র। চীনের অনুরোধ ফেরানো তেহরানের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
আস্থার অভাব: ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না। তাদের মতে, ওয়াশিংটন যে কোনো সময় ফের হামলা চালাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান এমন এক ‘জামিনদার’ বা গ্যারান্টার চাইছে যার কথা আমেরিকা ফেলতে পারবে না। আর সেই জায়গায় চীনই একমাত্র বিকল্প।
চীনের মধ্যস্থতা: এর আগেও চীনের অনুরোধে ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। বেইজিংয়ে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতও জানিয়েছেন, চীন যদি যুদ্ধের গ্যারান্টার হতে রাজি হয়, তবে এই সংঘাত দ্রুত মেটানো সম্ভব।
চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব
এদিকে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেইজিংও তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের সঙ্গে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। চীন চাইছে দ্রুত এই প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি ঘটাতে।
এখন দেখার বিষয়, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এই গোপন বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি শেষ পর্যন্ত বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় শান্তি খুঁজে পাবে? উত্তরের অপেক্ষায় বিশ্ব।