গাড়ি বাজারে ৪০০০ কোটির মহাধামাকা! মারুতি থেকে টাটা— ভারতীয়দের চাহিদার ঝড়ে রেকর্ড বিনিয়োগের পথে ৫ সংস্থা

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে বইছে আশার সুবাতাস। মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই থেকে শুরু করে টাটা মোটরস— দেশের শীর্ষস্থানীয় ৫টি গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এই অর্থবর্ষে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল মূলধনী ব্যয়ের (CapEx) মহাপরিকল্পনা করেছে। ইটি-র (ET) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদাই কোম্পানিগুলোকে এই সাহসি বিনিয়োগের পথে টেনে আনছে।
মারুতি সুজুকির মেগা টার্গেট: একাই ১৪ হাজার কোটি!
বিনিয়োগের দৌড়ে সবাইকে টেক্কা দিচ্ছে মারুতি সুজুকি। এই বছর তারা একাই ১৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কোম্পানিটির লক্ষ্য হলো বছরে আরও ৫ লক্ষ অতিরিক্ত গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা। মারুতির মতে, বর্তমানে ভারতের বাজারে গাড়ির যা চাহিদা, সেই তুলনায় সরবরাহ কম। এখনও প্রায় ১.৬৫ লক্ষ গাড়ির অর্ডার পেন্ডিং রয়েছে তাদের কাছে।
হুন্ডাই ও মাহিন্দ্রার নতুন ছক
দক্ষিণ কোরিয়ান জায়ান্ট হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া এবছর ৭,৫০০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করেছে। মহারাষ্ট্রের তালেগাঁও কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দুটি নতুন SUV মডেল বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। অন্যদিকে, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা ২০২৭ সালের মধ্যে ২৭,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। মাহিন্দ্রা গ্রুপের সিইও-র মতে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান আয় এবং অর্থনৈতিক সংস্কারই এই চাহিদার মূল চাবিকাঠি।
ভবিষ্যতের কাণ্ডারি টাটা মোটরস
টাটা মোটরস ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৩,০০০ থেকে ৩৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে। এই অর্থের বড় অংশই ব্যয় হবে বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV), নতুন সফটওয়্যার এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর। টাটার অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় গাড়ির বাজার বছরে ৬০ লক্ষ ইউনিটের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।
বাইক ও স্কুটারেও বিপ্লব: হিরো মোটোকর্পের বড় বাজু
কেবল চার চাকার গাড়ি নয়, দুই চাকার বাজারের রাজা হিরো মোটোকর্পও পিছিয়ে নেই। পেট্রোল ও ইলেকট্রিক স্কুটারের উৎপাদন বাড়াতে তারা ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাদের কর্পোরেট ইতিহাসে রেকর্ড।
যুদ্ধ আতঙ্ক বনাম ভারতীয় অর্থনীতি
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ে কোম্পানিগুলো যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। মারুতি সুজুকি আশা করছে তাদের বিক্রি ১০ শতাংশেরও বেশি বাড়বে, অন্যদিকে হুন্ডাই ৮-১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করছে।
সব মিলিয়ে, ৪০০০ কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ ভারতের রাস্তাঘাটে যে শীঘ্রই এক বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। গাড়ি প্রেমীদের জন্য আগামী কয়েক মাস হতে চলেছে নতুন নতুন মডেল ও ফিচারের চমকে ঠাসা।