বয়স স্রেফ একটা সংখ্যা! দুই নাতির দিদা এখন দশম শ্রেণির ‘স্টার’, পাঞ্জাব বোর্ডের রেজাল্ট দেখে থমকে গেল বিশ্ব

কথায় বলে, শিক্ষার কোনো শেষ নেই। আর সেই প্রবাদকেই এক লহমায় জীবন্ত করে তুললেন পাঞ্জাবের ৬১ বছর বয়সী নরেন্দ্র কৌর। যখন সমবয়সী মহিলারা নাতি-নাতনিদের নিয়ে অবসর জীবন কাটানোর পরিকল্পনা করেন, তখন জালন্ধরের নাকোদারের সারহালি গ্রামের এই মহীয়সী পাঞ্জাব স্কুল এডুকেশন বোর্ডের (PSEB) দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৭৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে গোটা দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

নাতির দিদা যখন দশম শ্রেণির ছাত্রী
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পাঞ্জাব বোর্ডের দশম শ্রেণির ফলাফল। সেখানেই দেখা যায়, শহীদ ভাই তারা সিং খালসা সিনিয়র সেকেন্ডারি (ওপেন) স্কুলের ছাত্রী নরেন্দ্র কৌর ৬৫০ নম্বরের মধ্যে ৫০০ নম্বর পেয়ে সগৌরবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য জুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই কাহিনী এখন হাজার হাজার মানুষের অনুপ্রেরণা।

কেন মাঝপথে থেমেছিল পড়াশোনা?
নরেন্দ্র কৌর জানান, কয়েক দশক আগে যখন তাঁর বিয়ের বয়স হয়েছিল, তখন মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ আজকের মতো অনুকূল ছিল না। পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হওয়ায় পড়াশোনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। এরপর দুই ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করার লড়াইয়ে নিজের শখ বিসর্জন দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁর দুই ছেলেই বিদেশে প্রতিষ্ঠিত— একজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যজন কানাডায়। দুই নাতিকে নিয়ে তাঁর ভরপুর সংসার।

সাফল্যের নেপথ্যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি
ছেলেরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নরেন্দ্র অনুভব করেন, মনের কোণে লুকিয়ে থাকা পড়াশোনার ইচ্ছাটা আজও মরেনি। এই বয়সে এসে ফের বইখাতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁর পরিবারও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জোগায়। নরেন্দ্র বলেন, “পড়াশোনা করার ইচ্ছা আমার সবসময়ই ছিল। পরিবারের সহযোগিতা না থাকলে এই বয়সে এসে ৭৭ শতাংশ নম্বর পাওয়া সম্ভব হতো না।”

থামা নেই এখানেই, লক্ষ্য এবার স্নাতক
দশম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়েই ক্ষান্ত হতে রাজি নন নরেন্দ্র কৌর। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা দেওয়া। এরপর কলেজে ভর্তি হয়ে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করতে চান তিনি। তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা প্রমাণ করে দিল যে, স্বপ্ন দেখার বা তা পূরণ করার কোনো নির্দিষ্ট ‘এক্সপায়ারি ডেট’ হয় না।

পাঞ্জাব থেকে উঠে আসা এই কাহিনী এখন প্রমাণ করছে যে, ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূলতা জয় করে পাহাড়ও টলানো যায়। নরেন্দ্র কৌর আজ কেবল একজন সফল ছাত্রী নন, তিনি সমাজের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা অগণিত নারীর কাছে এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।