ধামির মাস্টারস্ট্রোক! মন্ত্রীদের গাড়িবহরে কোপ, একগুচ্ছ ‘কড়া’ নিয়মে বদলে যাচ্ছে উত্তরাখণ্ড

বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হওয়া জ্বালানি সংকট এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির মোকাবিলায় এবার ‘বিপ্লবী’ পদক্ষেপ নিল উত্তরাখণ্ড সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচন এবং পরিবেশ রক্ষায় একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শক্তি সংরক্ষণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
মন্ত্রীদের গাড়িবহরে ৫০% কোপ, চালু হচ্ছে ‘নো ভেহিকেল ডে’
সরকারি খরচ কমাতে মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের গাড়িবহরের বহর অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন থেকে ভিআইপিদের কনভয়ে আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম গাড়ি থাকবে। পাশাপাশি, দূষণ ও জ্বালানি খরচ কমাতে সপ্তাহে একদিন ‘নো ভেহিকেল ডে’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওইদিন সরকারি কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজে উৎসাহিত করা হবে। বেসরকারি ক্ষেত্রকেও এই পথে হাঁটার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘এক অফিসার, এক গাড়ি’ নীতি
প্রশাসনিক স্তরে অপচয় রুখতে “ওয়ান অফিসার, এক ভেহিকেল” নীতি কার্যকর করছে ধামি সরকার। অর্থাৎ, কোনো আধিকারিক একাধিক দপ্তরের দায়িত্বে থাকলেও তিনি মাত্র একটিই সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এছাড়া আগামী দিনে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ যানবাহন হবে বৈদ্যুতিক (EV)। রাজ্যজুড়ে দ্রুত চার্জিং স্টেশন তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা ও পর্যটনে জোর
সরকারি টাকায় বিলাসিতা রুখতে আধিকারিকদের সরকারি বিদেশ সফরে আপাতত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তার বদলে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে চাঙ্গা করতে “ভিজিট মাই স্টেট” অভিযানের ডাক দিয়েছে সরকার। পর্যটন ক্ষেত্রে গতি আনতে ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর জন্য সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স চালু করা হচ্ছে।
সোনা কেনা ও খাদ্যাভ্যাসেও সরকারি পরামর্শ!
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, দেশের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সাধারণ মানুষকে আগামী এক বছর সোনা কেনা সীমিত রাখার আবেদন জানিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সরকারি ক্যান্টিনগুলোতে ‘লো অয়েল মেনু’ বা কম তেলের খাবার চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি রান্নার তেলের গুণমান যাচাইয়ে চলবে বিশেষ সমীক্ষা।
বিনিয়োগে গতি ও পরিবেশ রক্ষা
সৌরবিদ্যুৎ ও খনি প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদনের জন্য মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ৬০ দিনের মধ্যে সব প্রস্তাবের ফয়সালা করবে। এছাড়াও কৃষকদের প্রাকৃতিক ও জৈব চাষে উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রী ধামি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে যে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হয়েছে, তার প্রভাব সামলাতেই এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, পাহাড়ঘেরা এই রাজ্যের এই ‘মিতব্যয়ী’ মডেল দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্য উদাহরণ হতে পারে কি না।