নতুন মোড় আরজি কর রহস্যে! প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে কেন সরব পরিবার? বিস্ফোরক দাবিতে কাঁপছে নবান্ন

আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার রাজনীতির রথী-মহারথীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলল নির্যাতিতার পরিবার। পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রভাবশালী নেতা নির্মল ঘোষ-সহ মোট তিনজনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের এই বিস্ফোরক দাবিতে মামলাটি এক নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কাদের বিরুদ্ধে তোপ পরিবারের? নির্যাতিতার পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ঘটনার দিন থেকেই তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবার সরাসরি নাম করে তাঁরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় থেকে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং আরও দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল। পরিবারের দাবি, এই তিনজনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখলে রহস্যের অনেক জট খুলে যাবে। তাঁরা কেন ওইদিন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের উপস্থিতিতেই কেন তড়িঘড়ি সব কাজ করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন নির্মল ঘোষের নাম? পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ মূলত ঘটনার দিন তাঁর অতি-সক্রিয়তা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং শ্মশানে দেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। নির্যাতিতার বাবার প্রশ্ন, “এত তাড়া কিসের ছিল? কাদের আড়াল করতে প্রাক্তন বিধায়ক এবং আরও দুই জন সেখানে সক্রিয় ছিলেন, সিবিআইকে সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে।”
বিস্ফোরক মোড়ে তদন্তকারী সংস্থা: সিবিআই ইতিমধ্যেই আরজি কর কাণ্ডে বেশ কয়েকজনকে জেরা করেছে। তবে পরিবারের এই সরাসরি দাবি তদন্তের অভিমুখ বদলে দিতে পারে। সূত্রের খবর, সিবিআই দফতরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবার এই তিনজনের নাম লিখিতভাবে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি সত্যিই এই প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলে, তবে রাজ্যের শাসক দলের জন্য তা বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়ছে: প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেফতারির দাবিতে ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার এবং সাধারণ নাগরিকরা। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র একজন ‘সঞ্জয় রায়’ এই বিশাল ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে না। রাঘববোয়ালদের না ধরা পর্যন্ত তিলোত্তমার বিচার অধরাই থেকে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তদন্তের এই পর্যায়ে নির্মল ঘোষ বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে পরিবারের এই দাবির পর রাজ্য রাজনীতিতে যে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি হয়েছে, তা নিশ্চিত।