NEET-UG ২০২৬ ফাঁসকাণ্ডে ইউটিউব কানেকশন! ৫০ হাজার টাকার ‘স্পেশাল ক্লাস’-এই কি লুকিয়ে ছিল আসল প্রশ্নপত্র?

মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-UG ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর ‘ডিজিটাল’ যোগসূত্র। সিবিআই তদন্তের মাঝেই উঠে আসছে এক বিস্ফোরক তথ্য— ইউটিউবকে হাতিয়ার করেই নাকি চলেছিল প্রশ্ন বিক্রির কারবার! অভিযোগ উঠেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রটি ইউটিউবে অনলাইন ক্লাসের আড়ালে ৫০,০০০ টাকার বিনিময়ে ‘অনুমানমূলক প্রশ্ন’ পড়াত, যা আদতে পরীক্ষার আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
নিরাপত্তার মক ড্রিল কি কেবলই লোকদেখানো?
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) গত ৩রা মে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ২২.৮০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিল। এমনকি পরীক্ষার আগে ৫,৪৩২টি কেন্দ্রে মক ড্রিল বা মহড়াও চালানো হয়েছিল। জ্যামার বসানো থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক হাজিরা— সব ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রশ্ন বাইরে এল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কি প্রশাসনের অন্দরেই সমন্বয়ের অভাব ছিল? রাজস্থান পুলিশ একটি সাংবাদিক বৈঠক করলেও ৩ থেকে ৭ই মে-র মধ্যে এনটিএ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে কেন কোনো রিপোর্ট পাঠানো হয়নি, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।
৩০০ প্রশ্নের গোলকধাঁধা ও ‘সেট-২’ দাবি:
পরীক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের দাবি, এনটিএ-র উচিত অবিলম্বে প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় সেটটি (Second Set) প্রকাশ করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন, নমুনা প্রশ্নপত্রের ৩০০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৫০টি প্রশ্নই আসল পরীক্ষায় হুবহু মিলে গেছে। এর মধ্যে ৯০টি ছিল জীববিজ্ঞান থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এনটিএ দ্বিতীয় সেটটি প্রকাশ করে এবং সেখানে বাকি ১৫০টি প্রশ্নের মিল না পাওয়া যায়, তবেই একে ‘কাকতালীয়’ বলা সম্ভব। অন্যথায়, এটি যে একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
পাসওয়ার্ড রহস্য ও এনটিএ-র অন্দরের খবর:
সাধারণত পরীক্ষার ঠিক আগে এনটিএ-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন কোন সেটটি ব্যবহার করা হবে। দুই সেটের পাসওয়ার্ড আলাদা আলাদা ব্যক্তির কাছে থাকে। এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হলো, তা ভাবিয়ে তুলছে তদন্তকারীদের। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬-এর এই জালিয়াতির ধরণ অনেক বেশি জটিল ও গভীর বলে মনে করা হচ্ছে।
সিকার-এ নম্বরের সুনামি: কোচিং না কি কারচুপি?
রাজস্থানের সিকার শহর এখন কোচিং হাব হিসেবে কোটার পরেই উঠে আসছে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এখান থেকে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী ৭০০-র উপরে নম্বর পেয়েছেন। এই অস্বাভাবিক ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ট্রেন্ড’ বা পরিসংখ্যানগত ধারা দেখে সন্দেহ দানা বাঁধছে। আদালত যদিও বাস্তব প্রমাণ চায়, তবে এই বিপুল নম্বর প্রাপ্তি কি স্রেফ মেধা না কি ফাঁসের ফসল, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
বিব্রতকর এই পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে এখন কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে সিবিআই তদন্তের ওপর। দ্বিতীয় সেট প্রকাশের দাবি মেনে নিয়ে এনটিএ কি স্বচ্ছতা বজায় রাখবে, নাকি জল আরও ঘোলা হবে— এখন সেটাই দেখার।