বাজেটে বড় ধাক্কা! এক লাফে ১৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে যাচ্ছে সোনা?

মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা দিল কেন্দ্র সরকার। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করতে সোনা, রুপোসহ একাধিক মূল্যবান ধাতুর ওপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শুল্ক বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় বুধবার থেকেই সোনা ও রুপোর দাম প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তন
সংশোধিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সোনা আমদানিতে ১০ শতাংশ ‘বেসিক কাস্টমস ডিউটি’ এবং ৫ শতাংশ ‘কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস’ দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। দিল্লিতে মঙ্গলবারই ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৫০০ টাকা বেড়ে ১,৫৬,৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, রুপোর দাম কেজি প্রতি ১২,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২,৭৭,০০০ টাকায়।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ও কড়া পদক্ষেপ
উল্লেখ্য, গত দু’দিন আগেই হায়দরাবাদের এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানি খরচ কমানো এবং গণপরিবহণ ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এই শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতে সোনা আমদানির পরিমাণ রেকর্ড ৭১.৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার (রুপি) ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ভারতের আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত ‘চলতি হিসাবের ঘাটতি’ (Current Account Deficit) সামাল দিতেই সরকার ২০২৪-২৫ বাজেটে কমানো শুল্ক ফের বাড়িয়ে দিল।
এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে একইরকমভাবে শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছিল ভারত। রত্ন ও অলঙ্কার শিল্পে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।